রৌমারীতে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙ্গনে দিশেহারা মানুষ

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:০১
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙ্গনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষজন। রৌমারীর খেদাইমারী, বন্দবেড়, যাদুরচরের ব্রহ্মপুত্রের প্রায় ৭ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে চলছে ভাঙন। চলমান ভাঙ্গন রোধে বার বার সরকারের কাছে দাবি জানিয়েও কোন কাজ হয়নি। বাধ্য হয়ে এলাকাবাসী নিজ উদ্যোগে শুরু করেছেন বাঁশের পাইলিং দেয়ার কাজ। এলাকাবাসীর সাথে বাঁশের পাইলিং দেয়ার কাজে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন জেপি সংসদ সদস্য রুহুল আমিন। শুক্রবার সকালে বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই নদীভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে ব্রহ্মপুত্র তীরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী। এসময় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- কুড়িগ্রাম-৪ আসনের জেপি সংসদ সদস্য রুহুল আমিন, অধ্যক্ষ আব্দুল আজিজ, প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ মোঃ আব্দুল খালেক, ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের, আবু বকর সিদ্দিক, সাইফুল ইসলাম, আবুল কালাম আজাদ, আব্দুর রাজ্জাক, আনিসুর রহমান, আবু হানিফ, মহিউদ্দিন আলমগীর, বদিউজ্জামান, মনির হোসেন, আমিনুল ইসলাম প্রমুখ। ভাঙ্গনকবলিত এলাকাবাসী জানান, রৌমারী উপজেলার খেদাইমারী, বন্দবেড়, যাদুরচরের ব্রহ্মপুত্রের প্রায় ৭ কিলোমিটার জুরে চলমান ভাঙ্গনে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে তীরবর্তী শত শত মানুষ। গত বন্যা-পরবর্তী ভাঙনে এখান থেকে ২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ কয়েকশ বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আর তাই বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই দ্রুত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ দিয়ে নদীভাঙন ঠেকানোর দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী। শুকনা মৌসুমেই নদীভাঙন ঠেকানোর কাজ করা না হলে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে খেদাইমারী বাজার, বন্দবেড় ইউপি পরিষদসহ বিভিন্ন স্থাপনা। কুড়িগ্রামে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু তাহের জানান, ব্রহ্মপুত্র নদের বিভিন্ন এলাকার ভাঙ্গনকবলিত জনপদকে বাঁচাতে বিভিন্ন প্রকল্প চলমান রয়েছে এবং কিছু কিছু প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে। বর্ষা মৌসুম আসার পূর্বেই এসব কাজ শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে। কুড়িগ্রাম-৪ আসনের জেপি সংসদ সদস্য রুহুল আমিন জানান, হাজার হাজার একর জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় মানুষজন আতংকিত। নদীভাঙন ঠেকাতে এলাকাবাসী নিজ উদ্যোগে শুরু করেছে বাঁশের পাইলিং। আনুষ্ঠানিকভাবে নদীভাঙনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সহ প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছি। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, বন্যার আগেই নদে এই বিস্তীর্ণ জনপদ রক্ষায় কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।