প্রচণ্ড গরম ও পানি সংকটে মংলা ও আশপাশের এলাকার বাগদা চিংড়ি ঘেরের পোনা ও মাছ মরে যাচ্ছে। আশংকা করা হচ্ছে, এবার এ অঞ্চলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম বাগদা চিংড়ি উত্পাদন হবে। ঘের মালিক ও চিংড়ি ব্যবসায়ীদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে হতাশা।
উপজেলা মত্স্য অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১২ হাজার ৫০০ হেক্টর কৃষি জমির মধ্যে ১০ হাজার ৮৫৮ হেক্টর জমিতেই বাগদা চিংড়ি চাষ করা হয়ে থাকে। আর এখানে ছোট-বড় ঘেরের সংখ্যা ৫,৫৫০টি। গত বছর এখানে বাগদা উত্পাদিত হয়েছিল ৪ হাজার ৪শ’ টন।
উপজেলার চাঁদপাই গ্রামের চিংড়ি চাষী মো. আব্দুল্লাহ জানান, এ এলাকার অধিকাংশ ঘেরেই প্রয়োজনীয় পানি নেই। প্রচণ্ড গরমে ঘেরের পানি কমে যাচ্ছে। পানি স্বল্পতায় ঘেরের মাছ মারা যাচ্ছে।
সুন্দরবন ইউনিয়নের বাঁশতলা গ্রামের চিংড়ি ঘের ব্যবসায়ী মো. ইব্রাহীম জানান, তার ঘেরে গরমে মাছের শরীরে বিভিন্ন ধরনের রোগ-বালাই দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, এ বছর ঘেরের হারি ও ব্যাংক ঋণ কিভাবে পরিশোধ করবেন, সেটাই চিন্তার বিষয়।
চিলা ইউনিয়নের বৈদ্যমারী এলাকার ঘের মালিক মাহবুবুর রহমান টুটুল জানান, কিছুদিন পরে যে মাছ বিক্রি করার কথা সে মাছের গায়ে সাদা সাদা এক ধরনের ঘা দেখা যাচ্ছে। আবার নতুন করে মাছ ছাড়ার কথা ভাবছেন তার এলাকার ঘের মালিকরা।
মংলা উপজেলা সিনিয়র মত্স্য কর্মকর্তা বিশ্বজিত্ দেব বলেন, চিংড়ি মাছের খামারে সাধারণত সাড়ে তিন থেকে চার ফুট পানি থাকা প্রয়োজন। কিন্তু প্রচণ্ড তাপদাহে পানির স্বল্পতা দেখা দিয়েছে। অনেক ঘেরে এক ফুটেরও কম পানি আছে। মাটি ও পানিতে প্রচণ্ড তাপের কারণে অক্সিজেন সংকটে পানি দূষিত হয়ে মাছ মারা যাচ্ছে। তাছাড়া হিট স্ট্রোকেও মাছ মারা যাচ্ছে বলে জানান তিনি। অতিরিক্ত গরমের ফলে প্রতি বছরের এই সময়ে চাষীরা ক্ষতির সম্মুখীন হয় উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, মৌসুমের শুরুতে ঘের প্রস্তুত করার সময় চাষীরা ঘেরের মাটির সঠিক পরিচর্যা করে না। জমির ব্যাকটেরিয়া মারার জন্য যে পরিমাণ চুন ব্যবহার করার দরকার তাও ঠিকমতো করে না। এ ছাড়াও নিয়মিত ফরমুলেটেড খাদ্য সরবরাহ না করা, পানি পরিবর্তন ও বায়ু সঞ্চালনের ব্যবস্থা না করার কারণেও মাছ মারা যাচ্ছে। চিংড়ি চাষীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে কি কি পদক্ষেপ নিচ্ছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, চিংড়ি চাষীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি। সেমিনারের মাধ্যমে তাদের সচেতন করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। আর কোন এলাকায় মড়ক লাগার খবর পেলে আমরা সাথে সাথেই সেখানে গিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করি।
’৮০-এর দশকে উপজেলায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে শুরু হয় লবণ পানির চিংড়ি চাষ। লাভজনক হওয়ায় কয়েক বছরের মধ্যে গোটা উপজেলায় শুরু হয় চিংড়ি চাষ। এক সময়ের কৃষিপ্রবণ এলাকা পরিণত হয় চিংড়ি চাষের এলাকায়। ১৯৯৫ সালের দিকে প্রথম রোগ-বালাইয়ের প্রকোপ দেখা দেয়ায় এক দশক লাভের মুখে থাকা চিংড়ি চাষে নামে ধস। বেশ কয়েক বছর এমন অবস্থা চলার পর গত বছর বাগদা চাষ বেশ লাভজনক হয়।
