যে ধ্বনি অন্যের আশ্রয়ে উচ্চারিত হয় তাকে পরাশ্রয়ী ধ্বনি বলে
মো. সুজাউদ দৌলা
প্রভাষক
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা
প্রিয় শিক্ষার্থীরা, এখানে বাংলা ব্যাকরণের ‘ধ্বনি ও বর্ণ’ বা ‘ধ্বনিতত্ত্ব’ নামক অধ্যায়ের কিছু গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল সংজ্ঞা অত্যন্ত সহজ-সরল ভাষায় উল্লেখ করা হলো। মূলত এগুলো বাংলা ব্যাকরণ শিখনের মূল ভিত্তি বলে বিবেচিত। বাংলা ব্যাকরণে জ্ঞান অর্জন করতে গেলে সবার আগে এগুলো জানা দরকার । এগুলো লেখার সময় এমনভাবে খেয়াল রাখা হয়েছে যে, শিক্ষার্থীদের এগুলো আত্মস্থ করতে একবারের বেশি যেনো দুবার পড়তে না হয়।
অধ্যায় : ধ্বনি ও বর্ণ
অঘোষ ধ্বনি: যে-সব ধ্বনি উচ্চারণের সময় স্বরযন্ত্রের ভেতরকার স্বরতন্ত্রী কেঁপে ওঠে না, সে-সব ধ্বনিকে অঘোষ ধ্বনি বলে। বর্গীয় প্রথম ও দ্বিতীয় ধ্বনি হলো অঘোষ ধ্বনি। যেমন: ক, খ, চ, ছ, ট, ঠ প্রভৃতি।
ঘৃষ্ট বা ঘর্ষণজাত ধ্বনি: যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় জিহ্বার অগ্রভাগ চ্যাপ্টা হয়ে তালুতে ঘষে যায় তাকে ঘৃষ্ট বা ঘর্ষণজাত ধ্বনি বলে। চ, ছ, জ, ঝ এই ৪টি ধ্বনি হলো ঘৃষ্ট ধ্বনি।
নাসিক্য ধ্বনি: যে ধ্বনি উচ্চারণে ফুসফুস তাড়িত বায়ু মুখবিবর ছাড়াও নাসাপথ দিয়ে বের হয়; অর্থাত্ যেগুলো উচ্চারণে নাসিকার প্রয়োজন হয় তাকে নাসিক্য ধ্বনি বলে। এ ধ্বনির আরেক নাম আনুনাসিক ধ্বনি। যেমন: ঙ, ঞ, ণ, ন, ম।
উষ্ম বা শিস ধ্বনি: যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় শ্বাসবায়ু সংকীর্ণ বায়ুপথে আংশিক বাঁধা পেয়ে শিস জাতীয় ধ্বনি তৈরি করে তাকে উষ্ম বা শিস ধ্বনি বলে। উষ্ম ধ্বনি চারটি — শ, ষ, স, হ।
কম্পনজাত ধ্বনি: যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় জিহ্বার অগ্রভাগ কম্পিত হয়, তাকে কম্পনজাত ধ্বনি বলে। কম্পনজাত ধ্বনি একটি — র।
পার্শ্বিক ধ্বনি: যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় ফুসফুসতাড়িত বাতাস জিহ্বার একপাশ কিংবা উভয়পাশ দিয়ে বের হয় তাকে তাকে পার্শ্বিক ধ্বনি বলে। যেমন — ল।
সংযুক্তব্যঞ্জন বা যুক্তব্যঞ্জন: পর পর দুটো কিংবা তার বেশি ব্যঞ্জনধ্বনিকে লেখার জন্য ব্যঞ্জনবর্ণগুলোকে একটার সঙ্গে অন্যটাকে জুড়ে দেওয়াকে সংযুক্তব্যঞ্জন বা যুক্তব্যঞ্জন বলা হয়। যেমন: ক্+ষ্+ম = ক্ষ্ম, ষ্+ণ = ষ্ণ প্রভৃতি।
অন্তঃস্থ ধ্বনি: স্পর্শ ও উষ্ম ধ্বনির মাঝে অবস্থিত ধ্বনিগুলোকে অন্তঃস্থ ধ্বনি বলে।
যেমন: য, র, ল, ব।
পরাশ্রয়ী ধ্বনি: যে ধ্বনি অন্যের আশ্রয়ে উচ্চারিত হয় তাকে পরাশ্রয়ী ধ্বনি বলে। এ জাতীয় ধ্বনি তিনটি — ং, ঃ, ঁ।
বর্ণমালা: যে কোনো ভাষায় ব্যবহূত লিখিত বর্ণ সমষ্টিকে সে ভাষার বর্ণমালা বলা হয়।
