তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০১৪, ২০:০৩
একাদশ ও দ্বাদশ মো. মজিবুর রহমান সহকারী অধ্যাপক বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ, ঢাকা প্রিয় শিক্ষার্থীরা, শুভেচ্ছা নিও আজ থেকে আমরা দ্বিতীয় অধ্যায়ের প্রশ্নগুলো নিয়ে আলোচনা করব। প্রশ্ন: ডেটা কমিউনিকেশন বলতে কী বুঝায় ? ডেটা কমিউনিকেশনের উপাদানসমূহ বর্ণনা কর। এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নির্ভরযোগ্যভাবে ডেটা আদান-প্রদান করার প্রক্রিয়াকে ডেটা কমিউনিকেশন বলে। এই প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ৫টি মৌলিক উপাদান হল - উত্স ২. প্রেরক ৩. মাধ্যম ৪. প্রাপক ৫. গন্তব্য ডেটা কমিউনিকেশন ব্যবস্থায় কম্পিউটার পদ্ধতি প্রয়োগের ক্ষেত্রে একটি কম্পিউটার র্সোস, অপর একটি কম্পিউটার ডেস্টিনেশন, কম্পিউটার দুটির সাথে সংযুক্ত মডেম দুটি ট্রান্সমিটার ও রিসিভার এবং ট্রান্সমিশন মিডিয়া হিসেবে তার বা তারবিহীন সংযোগ ব্যবহার করা হয়। নিচের চিত্রে কম্পিউটার ব্যবহার করে ডেটা কমিউনিকেশন ব্যবস্থা দেখানো হল - ট্রান্সমিটার মডেম সোর্স কম্পিউটারের সৃষ্ট ডিজিটাল সংকেতকে মডুলেশনের মাধ্যমে এনালগ সংকেতে পরিণত করে ট্রান্সমিশন মিডিয়াতে তুলে দেয় এবং রিসিভার মডেম ট্রান্সমিশন মিডিয়া থেকে প্রাপ্ত এনালগ সংকেতকে ডিমডুলেশনের মাধ্যমে ডিজিটাল সংকেতে পরিণত করে ডেস্টিনেশন কম্পিউটারে প্রেরণ করে। উত্স : এটি একটি কম্পিউটার বা যে কোন ধরনের যন্ত্র হতে পারে যা ডেটা তৈরি করতে পারে। প্রেরক: একটি মডেম যা উত্স থেকে প্রাপ্ত ডেটা ট্রান্সমিশন মিডিয়াতে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। মাধ্যম: যার মাধ্যমে ডেটা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যায় একে ট্রান্সমিশন মিডিয়া বলে। ট্রান্সমিশন মিডিয়া হিসেবে তার বা তারবিহীন সংযোগ ব্যবহার করা হয়। প্রাপক: একটি মডেম যা ট্রান্সমিশন মিডিয়া থেকে প্রাপ্ত ডেটা গ্রহণ করে। গন্তব্য: একটি কম্পিউটার বা যে কোন ধরনের যন্ত্র হতে পারে যা প্রেরিত ডেটা গ্রহন করে ব্যবহার করে। প্রশ্ন: ব্যান্ড উইড্্থ্্ কী? ব্যান্ড উইড্্থ্্ কত প্রকার ও কী কী? বর্ণনা কর। অথবা ডেটা ট্রান্সমিশন স্পীড সম্পর্কে আলোচনা কর। ব্যান্ড উইডথ্: এক স্থান থেকে অন্য স্থানে প্রতি একক সময়ে যে পরিমাণ ডেটা (বাইনারি বিট) স্থানান্তরিত হয় তাকে ডেটা ট্রান্সমিশন হার বা Bandwidth বলে। ব্যান্ড উইডথ্ সাধারণত bit per second (bps) এ হিসেব করা হয়। অর্থাত্ প্রতি সেকেন্ডে যে পরিমাণ ডেটা ট্রান্সমিট করা হয় তাকে ব্যান্ড স্পীড বা Bandwidth বলে। ডেটা প্রেরণের চ্যানেলের প্রশস্থতা বা ব্যান্ডউইডথ যত বেশী হয় একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ঐ চ্যানেলে তত বেশী ডেটা প্রেরণ করা যায়। ডেটা ব্যান্ড উইডথেক তিন ভাগে ভাগ করা হয়। যথা - ১.ন্যারো ব্যান্ড ২.ভয়েস ব্যান্ড ৩.ব্রড ব্যান্ড ন্যারো ব্যান্ড (Narrowband): এই চ্যানেলে ডেটা চলাচলের গতি মন্থর। সাধারণত 45 bps থেকে 300 bps পর্যন্ত গতিতে ন্যারো ব্যান্ডে ডেটা স্থানান্তর হয়ে থাকে এবং এটি Sub voiceband নামেও পরিচিত। যে সকল ক্ষেত্রে ধীর গতিতে ডেটা স্থানান্তরের প্রয়োজন সেসকল ক্ষেত্রে এই ব্যান্ড উইড্্থ ব্যবহার করা হয়; যেমন - টেলিগ্রাফ। ভয়েস ব্যান্ড (Voiceband): ন্যারো ব্যান্ডের চেয়ে বেশী গতিতে ডেটা স্থানান্তরের জন্য ভয়েস ব্যান্ড চ্যানেল ব্যবহূত হয়। এই ব্যান্ডের গতি 1200 bps থেকে 9600 bps বা 8.5 pt পর্যন্ত হয়ে থাকে। সাধারণত টেলিফোন লাইনে এই ব্যান্ড উইড্্থ ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও কম্পিউটার ও পেরিফেরাল যন্ত্রপাতিতে ডেটা স্থানান্তরের ক্ষেত্রেও এ ব্যান্ড উইড্্থ ব্যবহার করা হয়। ব্রড ব্যান্ড (Broadband): ব্রড ব্যান্ড হলো সবচেয়ে দ্রুত গতির ডেটা প্রেরণের চ্যানেল। বিপুল পরিমাণ ডেটা উচ্চ গতিতে প্রেরণের জন্য ব্রড ব্যান্ড চ্যানেল ব্যবহার করা হয়। এই ব্যান্ড উইড্্থ 1 Mbps থেকে অনেক উচ্চ গতি পর্যন্ত হয়ে থাকে। মাইক্রোওয়েভ, অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবলে ডেটা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে ব্রড ব্যান্ড ট্রান্সমিশন ব্যবহার করা হয়।