উন্নয়ন অন্বেষণের প্রতিবেদন

বিনিয়োগ হ্রাস ও রেমিট্যান্স আয় কমায় প্রভাব পড়বে জিডিপিতে

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০১৪, ২০:৪০
স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন অন্বেষণ’ এর এক অর্থনৈতিক পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, বিনিয়োগ চাহিদা ও অভিবাসী খাতে আয় হ্রাস, রফতানিতে বৈচিত্র্যের অভাব ও অসন্তোষজনক বৈদেশিক বিনিয়োগের ফলে আশানুরূপ প্রবৃদ্ধি অর্জন হবে না। প্রতিষ্ঠানটি মনে করে, চলমান সংকোচনশীল মুদ্রানীতি ও অবকাঠামোর দূর্বলতা বিনিয়োগ চাহিদা কমিয়ে দিচ্ছে। এতে মূলধনী যন্ত্রপাতি ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানি গত দুই অর্থবছরে কমেছে। শিল্পখাতের প্রবৃদ্ধিও কমেছে। ২০১০-১১ অর্থবছর থেকে শিল্পখাতে ক্রমহ্রাসমান প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। ২০১০-১১ অর্থবছরে শিল্পখাতের প্রবৃদ্ধি ৯ দশমিক ৪৫ শতাংশ ছিল। ২০১১-১২ ও ২০১২-১৩ অর্থবছরে যথাক্রমে ৯ দশমিক ৩৭ ও ৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ ছিল। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারিতে রেমিটেন্সের প্রবাহ কমেছে। ২০১২-১৩ অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি সময়ে রেমিটেন্স প্রবাহ ৯৮৯১ দশমিক ৯৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ছিল, যা ৬ দশমিক ৯৩ শতাংশ কমে ২০১৩-১৪ অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি সময়ে ৯২০৬ দশমিক ৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। রেমিটেন্সের এ ক্রমহ্রাসমান ধারা অব্যাহত থাকলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ভোগ কমে যাবে ও দরিদ্রতা বাড়বে। কারণ গ্রামীণ পরিবারগুলোর আয়ের একটি বড় অংশ রেমিটেন্স থেকে আসে। সর্বশেষ খানা জরিপ অনুযায়ী ২০১০ সালে গ্রামীণ পরিবার গুলোর মোট আয়ের ১৭ দশমিক ২৮ শতাংশ রেমিটেন্স থেকে এসেছে। রেমিটেন্সের ক্রমহ্রাসমান প্রবৃদ্ধি হারের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কম শ্রমিক স্থানান্তর ও মধ্যপাচ্যে শ্রমিকের চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে ২০০৭-০৮ অর্থবছর থেকে রেমিটেন্সের প্রবাহের প্রবৃদ্ধি ক্রমান্বয়ে কমছে। বর্তমান অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি সময়ে রেমিটেন্সে প্রবাহের প্রবৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ১৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ ছিল। এদিকে রফতানিতে তৈরি পোষাকের একক অধিপত্য থাকা অর্থনীতির কাঠামোগত দূর্বলতাকে নির্দেশ করে। এ পরিস্থিতি বজায় থাকলে অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদে হুমকির সম্মুখীন হবে। এদিকে বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগের প্রবাহ গত পনের বছর ধরে অনিয়মিত ধারায় বাড়ছে। যদিও বৈদেশিক বিনিয়োগর পরিমান বাড়ছে, তবে এশিয়ার দেশগুলোর তুলনায় কম।