গাইবান্ধায় বৃষ্টির প্রত্যাশায় কোলা ব্যাঙের বিয়ে

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০১৪, ২১:৪৬
‘আল্লা মেঘ দে, পানি দে, ছায়া দেরে তুই’ কিংবা ‘আয় বৃষ্টি ঝেপে ধান দিব মেপে’। -গ্রামবাংলার চির চেনা এসব গান গেয়ে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির প্রত্যাশায় গাইবান্ধা সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের ভাটপাড়া গোপালপুর গ্রামে শুক্রবার বিকালে কোলা ব্যাঙের বিয়ে দেয়া হয়েছে। বিয়ের আয়োজন করে ওই গ্রামের কিশোর-কিশোরীরা। কনে ব্যাঙের পক্ষ ও বর ব্যাঙের পক্ষে বিভক্ত হয় তারা। গাইবান্ধায় এখন প্রচণ্ড খরা। সূর্যের প্রখর তাপে ফেটে গেছে ফসলের মাঠ। খাল-বিল-নদী-নালা শুকিয়ে গেছে। বিরূপ প্রকৃতির এই সময়ে সীমাহীন বিদ্যুত্ বিভ্রাট এবং ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে গাইবান্ধার জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। বিদ্যুত্ চালিত গভীর ও অগভীর নলকূপের আওতায় সেচ নির্ভর ইরি জমির ধান ক্ষেত পানির অভাবে পুড়ে লাল হয়ে গেছে। তাই ফসল বাঁচাতে গত এক সপ্তাহ থেকে জেলার গ্রাম অঞ্চলগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবিতে কৃষাণ-কৃষাণিরা মানববন্ধন, মিছিল, মিটিং, সড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে। কোথাও কোথাও বৃষ্টির জন্য নামাজ, দোয়া ও প্রার্থনা করা হচ্ছে। ব্যাঙের বিয়ের আয়োজকদের একজন মনিরা ইয়াছমিন জানায়, এসময় গাইবান্ধার শিশু-কিশোররাও বসে থাকেনি। দাদা-দাদী ও নানা-নানীর কাছে গল্প শুনে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির প্রত্যাশায় শুক্রবার বিকালে ওই কোলা ব্যাঙের বিয়ের আয়োজন করে তারা। তানজিদ জানায়, বিয়ে হয় সনাতন ধর্ম মতে। নিয়ে আসা হয় কলাগাছ। সাজানো হয়ে ডালা, কুলো। সেখানে রাখা হয় মাটির প্রদীপ, পান, সুপারী, দুর্বা ঘাস, সিঁদুর, মিষ্টি ইত্যাদি। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসায় বড়দের (অভিভাবক) তাড়ায় অবশেষে নব ব্যাঙ দম্পতিকে ছেড়ে দেয়া হয় জল বাসর ঘরে (জলাশয়ে)।