মনমোহনের ভাইয়ের বিজেপিতে যোগদানে ক্ষুব্ধ সিং পরিবার

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:২৫
ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সত্ ভাই দলজিত্ সিং কোহলি ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগ দিয়েছেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়েছেন সিং পরিবার। শুক্রবার দলজিত্ কোহলি বিজেপি’র নেতা নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে পাঞ্জাবের অমৃতসরে এক সমাবেশে বিজেপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন। বিজেপি’র প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী নরেন্দ্র মোদী দলজিেক স্বাগত জানিয়েছেন। দলজিতের এই যোগদান চলতি লোকসভা নির্বাচনে বিজেপিকে মানসিকভাবে অনেক শক্তিশালী করবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে দলজিত্ সিং জানিয়েছেন, ভাই প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে তার কোনো বিরোধ নেই। তিনি বলেন, কংগ্রেস দশ বছর দেশ শাসন করেছে। কিন্তু তাদের শাসনামলে আমি সন্তুষ্ট না। আদর্শিকভাবে আমি বিজেপিকে পছন্দ করি এবং আমি চাই নরেন্দ্র মোদী ভারতের প্রধানমন্ত্রী হোক। আর মোদী তাকে অন্তরের অন্তস্থল থেকে স্বাগত জানান। কোহলি বিজেপি’র জ্যেষ্ঠ নেতা প্রার্থী অরুণ জেটলির পক্ষে প্রচারণা চালাবেন। অরুণ জেটলিকে কংগ্রেস প্রার্থী অমরিন্দার সিংয়ের সঙ্গে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে। অমরিন্দার পাঞ্জাবের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী। কোহলি অটোমোবাইল পার্টসের ব্যবসা করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর ভাই হলেও কখনো রাজনীতি করেননি এবং কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও যুক্ত হননি। প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, কোহলি মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রাখতেন এবং রাজনীতির সঙ্গে তার যোগসূত্রও ছিল না। তিনি পরিবারের একজন সদস্য হিসেবেই কাজ করতেন। মনমোহনের পরিবারের আরো একটি সূত্র জানিয়েছেন, দলজিত্ সিংয়ের বিজেপিতে যোগদান কেবল কংগ্রেসের জন্যই বিব্রতকর নয়, মনমোহন সিংয়ের জন্যও মানসিক বিপর্যয়। সমপ্রতি মনমোহন সিংয়ের সাবেক গণমাধ্যম উপদেষ্টা সঞ্জয় বরুর বই প্রকাশের পর এটা আরেকটা মানসিক আঘাত মনমোহনের জন্য। গতকাল শনিবার এ ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। এক অনুষ্ঠানের ফাঁকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মনমোহন বলেন, দলজিত্ নিজের সিদ্ধান্তে ব্যাপারে যথেষ্ট উপযুক্ত, তাই এ সিদ্ধান্তে তার কোনো হাত নেই। চলমান লোকসভা নির্বাচনে সংযুক্ত প্রগতিশীল মোর্চা (ইউপিএ)-এর ক্ষমতায় আসা প্রসঙ্গে মনমোহন বলেন, ইউপিএ-এর তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসা অসম্ভব নয়। প্রধানমন্ত্রীর বর্তমান গণমাধ্যম উপদেষ্টা জানিয়েছে, এঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর পরিবার বিস্মিত হয়েছেন। তবে খুশি হয়েছেন অরুণ জেটলি। তিনি মনে করেন, দলজিত্ সিংয়ের যোগদানের মাধ্যমে তার জন্য জয়টা অনেক সহজ হবে। জেটলির এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলেন, এটা কি কল্পনা করা যায়, যে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তার ভাইয়ের আস্থা নেই, সেই প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কিভাবে দেশবাসী আস্থা রাখবেন? পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী পরকাশ সিং বাদল মনমোহনের সমালোচনা করে বলেন, তিনি মনমোহন সিং পাঞ্জাবের পুত্র। কিন্তু তার সঙ্গে কী ব্যবহার করা হয়েছে সেটা সবার জানা। কংগ্রেস তাকে রাবার স্ট্যাম্প হিসেবে ব্যবহার করেছে। তবে পাঞ্জাবের কংগ্রেস দলের শাখা জানিয়েছে, দলজিত্ সিংয়ের বিজেপিতে যোগদানে নির্বাচনে কোনো প্রভাব ফেলবে না। কারন তিনি কখনো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। পাঞ্জাব প্রদেশের কংগ্রেসের মুখপাত্র সুখপাল খাইরা জানিয়েছেন, এটা দুর্ভাগ্যজনক যে যার ভাই দশ বছর ধরে দেশ শাসন করলেন তিনিই বিজেপিতে যোগ দিলেন।