কপোতাক্ষ খননের নামে হরিলুট!

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:২৮
সাতক্ষীরার তালায় কপোতাক্ষ নদ খননের নামে ব্যাপক লুটপাট ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের ডিজাইন অনুযায়ী কোন কাজ করা হচ্ছে না। কাজের এক মাস অতিবাহিত হলেও এখনও পর্যন্ত কোন সাইনবোর্ড দেয়া হয়নি উক্ত এলাকায়। করা হয়নি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কোন মনিটরিং কমিটি। কাজ তালায় হলেও তদারকি অফিস করা হয়েছে যশোরের কেশবপুরে। ফুঁসে উঠেছে বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন ও এলাকাবাসী। ক্ষুব্ধ স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ। তালা সদর এলাকায় খনন করা হচ্ছে কপোতাক্ষ নদ। বোঝার উপায় নেই এটা সরকারি টাকায় নদ খনন নাকি বিশাল কপোতাক্ষের মাঝ বরাবর নালা তৈরির কাজ। ২৫/৩০ ফুট ‘নালার’ খননকৃত মাটি তার পাশেই ফেলা হচ্ছে। এলাকাবাসী ঠিকাদারের লোকজনের উদ্ধৃতি দিয়ে জানালেন, খননের পর ১৭০ ফুট চওড়া হবে কপোতাক্ষ নদ। এ বছর কাটা হবে ৫০ ফুট। অবশিষ্ট ১২০ ফুট আগামী বছর খনন করা হবে। এলাকাবাসী আরো জানান, আগামী বছর যেটুকু খনন করা হবে বলা হচ্ছে, এবার মাটি ফেলা হচ্ছে সেখানেই। তালা উপজেলা পানি কমিটির সাধারণ সম্পাদক মীর জিল্লুর রহমান বলেন, প্রকল্পের ডিজাইন অনুযায়ী কপোতাক্ষ নদ খনন প্রকল্পের আওতায় ৯০ কি.মি. নদী খননের ব্যবস্থা আছে, যার টপ ১৭০ ফুট, তলা ১১০ ফুট এবং গভীরতা হবে ৩০ ফুট। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের বক্তব্য অনুযায়ী বর্তমান খনন কাজ হচ্ছে, টপ ৫০ ফুট, তলা ৩০ ফুট এবং গভীরতা ১০ ফুট। এভাবে খনন করা হলে ডিজাইনের মাত্র ৩০ ভাগ খনন করা হবে, বাকি ৭০ ভাগ আগামী বছর খনন করা হবে। বর্তমান মৌসুমে বালিয়া ক্রসড্যাম থেকে উজানে পাটকেলঘাটার ৩/৪ কিমি ভাটি পর্যন্ত ৪৭-৫০ কিমি খনন কাজ এস্কাভেটর দ্বারা শুরু করা হয়েছে। তবে যেনতেনভাবে এবং দায়সারাভাবে নদী খনন করা হচ্ছে এবং খননকৃত মাটি নিকটবর্তী এলাকায় স্তূপ করা হচ্ছে। যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মশিউর রহমান বলেন, কপোতাক্ষ নদ দুই দফায় খনন করা হবে। প্রথম দফায় ৫০ ফুট টপ, ৩০ ফুট বটম এবং ১০ ফুট গভীর করে খোঁড়া হচ্ছে। চলতি বছর তালা উপজেলার বালিয়া হতে পাটকেলঘাটা পর্যন্ত ৪৭ থেকে ৫০ কিঃমিঃ জুড়ে নদটি খনন করা হবে। এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, প্রকল্পের ডিজাইন অনুযায়ী এক-চতুর্থাংশ কাজও হচ্ছে না। সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও ‘কপোতাক্ষ বাঁচাও’ আন্দোলনের সাতক্ষীরা জেলা সমন্বয়কারী মুস্তফা লুত্ফুল্লাহ বলেন, কপোতাক্ষ নদ খননের প্রকল্পানুযায়ী প্রথম টিআরএম বাস্তবায়ন হবে, তারপর নদের মাঝে ক্রস বাঁধ দিতে হবে। কিন্তু বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ তা না করে আগে নদের মাঝে ক্রস বাঁধ দেয়ায় বাঁধের ভাটি অংশ দ্রুত ভরাট হয়ে যাবে।