বৈমানিক বা পাইলট নব প্রজন্মের পছন্দের একটি বিষয়। যুগ-যুগান্তর ধরে এটি একটি রোমাঞ্চকর হিসেবে আলোচিত ও শিশু কিশোরদের কাছে স্বপ্নের মতো। আর আকাশে উড়ার এই বাসনাকে বাস্তবে রুপ দিতে গ্রহণ করতে হয় শিক্ষা। তবে আমদের দেশে এই শিক্ষার প্রতি বিশেষ যত্ন নেয়া হচ্ছে না নিবীড়ভাবে। বাংলাদেশী বৈমানিকদের দক্ষতা বিশ্বজুড়ে নন্দিত ও প্রশংসিত হলেও বৈমানিক সৃষ্টি ও প্রশিক্ষণের ক্ষেত্র তৈরিতে তত্পরতা ন্যূনতম সীমার অনেক নিচের রেখায় অবস্থিত। আমাদের দেশের তরুণ বৈমানিকরা বিভিন্ন বিদেশি এয়ারলাইন্সে যথেষ্ট যোগ্যতা, দক্ষতা ও মেধার পরিচয় দিয়েছেন দেশের বিভিন্ন এয়ারলাইন্সে, বাংলাদেশ বিমানে এমনকি এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে। বিশ্বজুড়ে পাইলট চাহিদা থাকলেও পাইলট সংখ্যা বাড়ছে না চাহিদানুযায়ি । এমন সময় বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত কানাডিয়ান সিটিজেন মাসুদুর রহমান ২০০৮ সালে দেশে প্রতিষ্ঠা করেন আন্তর্জাতিক মানের গ্যালাক্সি ফ্লাইং একাডেমি লি:। যাদের কাজ বিশ্বমানের পাইলট তৈরি করা।
কোর্সসমূহ :প্রভিশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অপারেশন লাইসেন্স’ নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই ফ্লাইং একাডেমি এখন পরিচালনা করছে প্রাইভেট পাইলট লাইসেন্স (PPL) কোর্স, কমার্শিয়াল পাইলট লাইসেন্স (CPL) কোর্স, ফ্লাইট ইনস্ট্রাক্টর রেটিং (FIR) কোর্স, ইনস্ট্রুমেন্ট রেটিং (IR) কোর্স এবং লাইসেন্স কনর্ভাসন (Conversion) কোর্স ।
পাইলট তৈরির সম্ভাবনাময় সেক্টরে ফ্লাইং একাডেমি- গ্যালাক্সি’একটি প্রতিষ্টান। প্রতিষ্ঠানটি ২০০৯ সালে ‘সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশ (CAAB)’ এর সনদ লাভ করে। রাজশাহীতে রয়েছে তাদের নিজস্ব আবাসিক ভবন, পাঁচ প্রশিক্ষণ বিমান; Cessna-152 ও Cessna-172R মডেল এবং রাজশাহী বিমানবন্দরে অবস্থিত ৮-১০ বিমান ধারণকারী নিজস্ব হ্যাংগার। প্রশিক্ষণের জন্য তারা ব্যবহার করছে রাজশাহী বিমানবন্দর রানওয়ে।
ভর্তি যোগ্যতা:পিপিএলের জন্য বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি এবং সিপিএল কোর্সের জন্য বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসি পাস করে যে কেউ এই ফ্লাইং একাডেমিতে আবাসিক/ অনাবাসিক ব্যবস্থাপনায় ভর্তি হতে পারেন।
প্রশিক্ষণ ব্যস্থাপনা: পিপিএল এর জন্য ৩২০ ঘণ্টার গ্রাউন্ড ও ৪০ ঘণ্টার ফ্লাইং ক্লাস এবং সিপিএলের জন্য ৩৫০ ঘণ্টা গ্রাউন্ড ক্লাস করার পর ১১০ ঘন্টা ফ্লাইং প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এসব প্রশিক্ষণের পর একজন ছাত্র অর্জন করেন বৈমানিক হওয়ার দক্ষতা ও যোগ্যতা। এর পরবর্তি ধাপে পরীক্ষা দিয়ে তাকে ‘সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিতে হয় ‘কমার্শিয়াল পাইলট লাইসেন্স (CPL)। ১৫০ ঘণ্টা উড্ডয়নের পর একজন কমার্শিয়াল পাইলট লাইসেন্সধারী বৈমানিক’ যেকোন এয়ারলাইন্সে ফার্স্ট অফিসার পদে যোগদানের যোগ্যতা অর্জন করেন।
প্রশিক্ষণের জন্য এখানে রয়েছেন ৪ জন অভিজ্ঞ প্রশিক্ষক। যাদের নেতৃত্বে আছেন চীফ ফ্লাইট ইন্সট্রাক্টর (CFI)
উন্নত মানের পাঁচটি প্রশিক্ষণ বিমান - Cessna-152 এবং Cessna-172R মডেল।
সকল প্রশিক্ষণার্থী এবং প্রশিক্ষকের রয়েছে ফ্লাইং রিস্ক ইন্সুরেন্স।
রাজশাহীতে যাতায়াতের জন্য রয়েছে নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা।
যোগাযোগ: জানতে বাড়ি-২০, লেক ড্রাইভ রোড, সেক্টর-০৭, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা। ফোন: ৮৯২১২১৮, ০১৯৩৮৮৩৮৮০৪
