ত রু ণী ক থা ........................

আকলিমা জান্নাত আরজু

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০১৪, ২০:০০
একটি ছেলে যা কিছু করতে পারে একটি মেয়ের দ্বারাও সেটা করা সম্ভব। সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে মেয়েদের পদচারণা রয়েছে। বর্তমানে মেয়েরা উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, পাইলট ইত্যাদি পেশায় নিজেদেরকে নিয়োজিত করছে। এমনকি তারা দেশ চালাতেও সক্ষম। যা আমরা বাস্তবে দেখতে পাই। মেয়েরা আজকাল সমাজসেবার কাজও করছে। এভারেস্ট জয় করতেও সক্ষম হয়েছে। বর্তমান সমাজে মেয়েদের অবদানের কথা বলে শেষ করা যাবে না। কিন্তু এত কিছুর পরও সমাজে মেয়েরা অবহেলিত। শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে মেয়েদের ইচ্ছার যথাযথ মূল্যায়ন দেয়া হয় না। আমি আমার কথাই বলি যে, আমি সাংবাদিকতা নিয়ে পড়াশোনা করতে চেয়েছিলাম। আমি এই বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করছি। কিন্তু প্রথম অবস্থায় আমাকে অনেক বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। অনেকভাবে সমালোচিত হতে হয়েছে। একটি ছেলে যদি সাংবাদিকতার কঠিন জগতে প্রবেশ করতে পারে তাহলে আমি মেয়ে হয়ে কেন পারব না? এবার মেয়েদের মর্যাদার কথা যদি বলি। তবে এখানেও আমরা অপ্রীতিকর কিছু বিষয় দেখতে পারবো। মেয়েরা মায়ের জাত, তাদের শ্রদ্ধার চোখে দেখা উচিতসহ অনেক কথাই আমরা শুনে থাকি। কিন্তু কথাগুলো কি পুরোপুরি সত্য? আমার কাছে পুরোপুরি সত্য বলে মনে হয় না। যদি তাই হতো তাহলে আজও মেয়েদের ইভটিজিং-এর কারণে অকালেই প্রাণ হারাতে হতো না। ছেলেদের প্রতারণার স্বীকার হয়ে এসিডদগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালের বিছানায় মৃত্যুযন্ত্রণায় ছটফট করতে হতো না। মেয়েদের এখনও যথাযথ মর্যাদা দেয়া হয় না বলে আমি মনে করি। গ্রামীণ পরিবারগুলোতে এখনও নানাভাবে মেয়েদের অত্যাচারিত হতে হয়। সম্পত্তি ভোগের ক্ষেত্রে মেয়েরা সেই প্রাচীনকাল থেকেই বঞ্চিত হয়ে আসছে। বিষয়গুলো আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে লেখা বললে খুব একটা ভুল হবে না। ছেলে ও মেয়েদের মধ্যে এখনও বৈষম্য সৃষ্টি করা হয়ে থাকে। কিন্তু তারপরেও মেয়েরা পিছিয়ে নেই। সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রেই ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরাও তাদের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে আসছে। উপরের বৈষম্যগুলো যদি দূর করা যায় তাহলে মেয়েরা আরো সামনের দিকে এগিয়ে যাবে বলে আমার ধারণা। ‘বিশ্বের যা কিছু মহান সৃষ্টি চিরকল্যাণকর/ অর্ধেক তার আনিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর’ এই কবিতার লাইনগুলো আমরা ভুলে যেতে পারি না। সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকেই মেয়েরা ছেলেদের সহযোগীর ভূমিকা পালন করে আসছে। তাই মেয়েদের অবহেলা করার কোনো কারণই আমি খুঁজে পাই না। আমার মনে হয় ছেলে ও মেয়েদের মধ্যে বৈষম্য বন্ধ করা উচিত। সমাজের প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে ছেলে ও মেয়েদের অবদান সমান হওয়া উচিত।