এ্যাডভোকেট সোহানা জেসমিন মুক্তা। বাড়ি ধামরাইয়ের টোপের বাড়ী গ্রামে। বাবা প্রয়াত সেনা কর্মকর্তা প্রকৌশলী হাজী মহম্মদ মহসীন উজ্জামান। মা হাজী রওশন আরা মহসীন। দুই ভাই-বোনের মধ্যে বড় সোহানা। পড়াশোনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে। আছেন আইন পেশায়। ছিলেন জর্জ কোর্টের এপিপি। বর্তমানে হাইকোর্টে প্র্যাকটিস করছেন। তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন বারের কালচারাল সেক্রেটারি। স্বামী ডা. আলমগীর কবীর আর দুই সন্তান নিয়ে সোহানার সংসার।
মানুষের সেবায় রয়েছে তার অদম্য আগ্রহ। বাবার প্রতিষ্ঠিত হামিদা আফাজ উচ্চ বিদ্যালয় নিয়েও ব্যস্ত থাকেন তিনি। বিনামূল্যে ছাত্রছাত্রীদের ড্রেস, বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান ও পুরস্কার সামগ্রী, গরীব ও মেধাবীদের বিনামূল্যে লেখাপড়ার সুযোগ রয়েছে এখানে। সুযোগ পেলেই স্কুলে চলে আসেন এবং সব বিষয়ে খোঁজ-খবর নেন। স্কুলে ক্লাস নিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করে থাকেন। সোহানার সেবামূলক কর্মকাণ্ড, গুণাবলী মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়। বাড়তে থাকে জনপ্রিয়তা। ধামরাই উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। ভোট পেয়েছেন একষট্টি হাজারেরও বেশি।
কথা প্রসঙ্গে সোহানা বলেন, আগে থেকেই বিভিন্নভাবে মানুষের সেবায় নিজেকে সম্পৃক্ত রাখতে সাধ্যমত চেষ্টা করেছি। ভবিষ্যতেও মানুষের সুখে-দুঃখে আমি তাদের পাশে থাকতে চাই। তিনি বলেন, জাতীয় উন্নয়নে নারীর ভূমিকা অপরিসীম। উন্নত জাতি গঠনে নারী উন্নয়ন ও নারী জাগরণের বিকল্প নেই। নারী সমাজকে আত্মসচেতন ও আত্মনির্ভরশীল হতে অনুপ্রেরণা যোগাতে হবে। তিনি আরো বলেন, আমার চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই। আমি মনে করি মানব সেবায় আত্মউত্সর্গের মাঝেই জীবনের স্বার্থকতা নিহিত। কাজেই মানুষের জন্য নিজেকে উত্সর্গ করতে পারলে সেটাই হবে আমার বড় পাওয়া। এই আদর্শ নারীর প্রিয় ব্যক্তিত্ব তার বাবা। বাবার কাছ থেকেই উত্সাহ পেয়েছেন মানব সেবার। বই পড়তে এবং গান শোনতে ভালোবাসেন তিনি। স্বামী সন্তান নিয়ে ভ্রমণ খুব পছন্দ এই মহিয়সী নারীর।
