রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন বলেছেন, আগামী ২০১৫ সালের জুলাই থেকে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক (আরডি) ব্যবস্থা থাকছে না। এছাড়া ১৪৭টি বাদে বাকী পণ্যের আমদানির ক্ষেত্রে সম্পূরক শুল্ক (্এসডি) ব্যবস্থাও থাকবে না। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নীতি অনুযায়ী এই দুটি শুল্ক ব্যবস্থা শূন্যে নামিয়ে আনতে হবে। ফলে দেশীয় শিল্প রক্ষার নামে আমদানি পণ্যের উপর একটি নির্দিষ্ট সীমারেখার বাইরে শুল্ক চাপিয়ে দেয়া যাবে না। এর ফলে দেশীয় শিল্প প্রতিযোগিতার মুখে পড়বে। এই চাপ সহ্য করার জন্য এখন থেকেই তাদের প্রস্তুত হতে হবে। গতকাল রবিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় এনবিআরের সম্মেলন কক্ষে সিরামিক পণ্যসামগ্রী উত্পাদনকারীদের সঙ্গে প্রাক বাজেট আলোচনায় এ তথ্য জানান এনবিআর চেয়ারম্যান।
প্রাক বাজেট আলোচনায় উপস্থিত হয়ে এনবিআর বাংলাদেশ সিরামিক ওয়্যারস ম্যানুফেকচারার্স এন্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ সিরামিকের কাঁচামাল আমদানিতে বিদ্যমান শুল্ক কমানো ও সম্পূর্ণ প্রস্তুত সিরামিক পণ্য আমদানিতে শুল্ক বাড়িয়ে দেয়ার দাবি জানান। এ বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআর চেয়ারম্যান উপরোক্ত তথ্য দেন।
এর জবাবে সিরামিক উত্পাদনকারী সংগঠনের নেতারা এই ব্যবস্থা একবারে না উঠিয়ে ধাপে ধাপে উঠানোর প্রস্তাব দেন।
প্রসঙ্গত, আমদানিকৃত পণ্যের উপর বর্তমানে সম্পূরক শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে ৮০০ শতাংশ এবং নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে শুরু করে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যমান রয়েছে। দেশীয় শিল্পকে রক্ষা এবং বিলাসদ্রব্য আমদানি নিরুত্সাহিত করতে এসব পণ্যের বেশকিছু পণ্যের উপর উচ্চহারে শুল্ক প্রযোজ্য।
আগামী জুনের শুরুর দিকে পরবর্তী অর্থবছরের জন্য বাজেট ঘোষণা করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বাজেট প্রণয়নের মূল কাজটি করছে এনবিআর। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে পরামর্শমূলক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এনবিআর। এরই অংশ হিসেবে গতকাল সিরামিক ওয়্যারস উত্পাদনকারীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় মিলিত হয় এনবিআর।
বৈঠকে সংগঠনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মোল্লার সভাপতিত্বে সংগঠনের পক্ষে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রিজভিউল কবির।
