রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাশ-পরীক্ষা, আবাসিক হল, গ্রন্থাগার, কম্পিউটার সেন্টারসহ বিভিন্ন স্থানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শনাক্তকরণ কাজে ব্যবহূত ‘ডিজিটাল পরিচয়পত্র’ দেয়ার কথা থাকলেও গত দুই বছরেও তা দেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। প্রত্যেক বিভাগে ভর্তির সময় এই পরিচয়পত্রের জন্য ২৫ হাজার শিক্ষার্থীর থেকে ৪শ’ টাকা হারে দুই বছরে মোট দুই কোটি টাকা উত্তোলন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। টাকা নেয়ার পরও পরিচয়পত্র না পাওয়ায় ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
জানা গেছে, ২০১২ সালের ১৩ মে তত্কালীন উপাচার্য এম আব্দুস সোবহান বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ডিজিটাল পরিচয়পত্র বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সরকারের তত্কালীন বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী ইয়াসেফ উসমান। এতে প্রাথমিকভাবে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ৫শ’ জনকে এ পরিচয়পত্র প্রদান করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সেই আশার বাণী কথাতেই থেমে গেছে, বাস্তবায়িত হয়নি। ওই অনুষ্ঠানের উদ্বোধনের জন্য কয়েকজন শিক্ষার্থীদের হাতে ডিজিটাল পরিচয়পত্র দেয়া হয় মাত্র।
এদিকে বর্তমান প্রশাসন ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের হাতে আবারও সেই পরিচয়পত্র দেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করে। এ জন্য ২০১৩ সাল থেকেই বর্তমান প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ২৫ হাজার শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৪শ’ টাকা হারে দুই বছরে অন্তত ২ কোটি টাকা উত্তোলন করেছে। এরপরও পরিচয়পত্র পায়নি কেউই। আবারও পরিচয়পত্র দেয়ার জন্য এ বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এটি প্রস্তুতের ভার দেয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক মো. খাদেমুল ইসলাম মোল্লাকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেন, ডিজিটাল পরিচয়পত্র প্রদানের কথা বলে আমাদের বেতন থেকে টাকা নেয়া হয়েছে। এর পর এক বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও আজ পর্যন্ত আমি সেই পরিচয়পত্র হাতে পাইনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সে ভর্তি হওয়া একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, আমরা ২০১৩ সাল থেকে ডিজিটাল পরিচয়পত্রের জন্য চতুর্থ বর্ষে ৪শ’ টাকা দিয়েছি। এবার মাস্টার্সে ভর্তির সময়ও ৪শ’ টাকা দিতে হয়েছে। মোট ৮শ’ টাকা দিয়েও আমরা আইডি কার্ড হাতে পাইনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক মো. খাদেমুল ইসলাম মোল্লা বলেন, নতুনভাবে ফেব্রুয়ারিতে আমরা পরিচয়পত্রের জন্য কাজ শুরু করেছি। এরই মধ্যে সকল শিক্ষার্থীর ডাটা সংরক্ষণের কাজ শুরু করে দিয়েছি। আশা করছি খুব তাড়াতাড়ি শিক্ষার্থীদের হাতে এই পরিচয়পত্র পৌঁছে দিতে পারবো।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য চৌধুরী সারওয়ার জাহান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব শিক্ষার্থী চতুর্থ বর্ষে মাস্টার্সে টাকা দিয়েছেন তারা দুই বর্ষেরই পরিচয়পত্র পাবেন। শিক্ষার্থীদের এ দুটি পরিচয়পত্র বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সার্টিফিকেট উত্তোলনের জন্য ব্যবহার করতে হবে।
নাট্যকলা ও সঙ্গীত বিভাগ পৃথক
শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমকে আধুনিকায়ন ও অধিকতর গতিশীল করতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নাট্যকলা ও সঙ্গীত বিভাগকে পৃথক করে নাট্যকলা এবং সঙ্গীত নামে দুটি পৃথক বিভাগ করা হয়েছে। সমপ্রতি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা পরিষদের সভায় এই সিদ্ধান্ত পাস হয়। গত শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেন। ড. অসিত রায়কে সঙ্গীত বিভাগের এবং ড. শাহরিয়ার হোসেনকে নাট্যকলা বিভাগের নতুন সভাপতি নিয়োগ করা হয়েছে।
