অল্পের জন্য বাঁচলো শেখ জামাল

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০১৪, ২২:০৬
শেখ জামাল ২ ২ সকার ক্লাব ওশেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব ভাবতেও পারেনি সকার ক্লাবের বিরুদ্ধে খেলতে নেমে তাদের এই পরিণতি হবে। কাল হারতে হারতেই বেঁচে গেছে দলটি। সকার ক্লাবের বিরুদ্ধে ২-০ গোলে এগিয়ে থাকা শেখ জামালকে শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়। ম্যাচের ১৪ মিনিটে প্রথম গোল পায় শেখ জামাল। ৩০ মিনিটে দ্বিতীয় গোল পেয়ে যাওয়ায় দলের কর্মকর্তারা চেয়ারে পিঠ এলিয়ে বেশ ফুরফুরে মেজাজে খেলা দেখছিলেন। এটা তো তারা করতেই পারেন। কারণ ফেনীর দলটির সামনে শেখ জামালের শক্তি সবদিক থেকেই এগিয়ে। প্রত্যেকটা ডিপার্টমেন্টে শেখ জামালের আছে দেশের ফুটবলের সেরা অস্ত্র। যাদের নিয়ে এই দলটি দারুণ পারফরম্যান্স করে আসছে। তাদের তুলনায় ফেনীর সকার ক্লাব যেন একেবারেই ক্ষুদ্র। তারপরও সকার ক্লাব দুই গোল হজম করে দুই গোল শোধ করেছে। খেলায় সমতা এনেছে। চাট্টিখানি কথা নয়। লিগ শিরোপা অভিযানে থাকা দলের কাছ থেকে মহা মূল্যবান পয়েন্ট কেড়ে নিয়েছে রেলিগেশন লড়াইয়ে থাকা একটা দল। স্বাধীনতা কাপ ফুটবলের পর সকার ক্লাব যেন এখন বড় দলকে রোখার লড়াইয়ে নেমেছে। যে কোনো দলের জন্য এখন সকার ক্লাব ভয়ের কারণ। বিজেএমসির বিরুদ্ধে গোল হজম করে ম্যাচ জিতেছে এই দল। আবাহনীকে তো ধরেই ফেলেছিল। হাত ফসকে বেরিয়ে বেঁচে যায় আবাহনী। আর গতকাল শেখ জামালের কাছ থেকে এক পয়েন্ট কেড়ে নিয়ে আতংকটা আরো ছড়িয়ে দিয়েছে স্বাধীনতা কাপ ফুটবল রানার্সআপ সকার ক্লাব। গতকাল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে নিটল টাটা প্রিমিয়ার ফুটবল লিগে শেখ জামাল হারের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। জামালের সনি নর্দে, ডার্লিংটন, সোহেল রানা, ওয়েডসনরা যেমন ভালো খেলেছে তেমনি তারা গোলের সুযোগ মিস করে দলকে ক্ষতির দিকেও ঠেলেছেন। ১৪ ও ৩০ মিনিটে ওয়েডসন গোল করে শেখ জামালকে এগিয়ে দেন। দুটো গোলই ছিল দেখার মতো। বক্সের উপর থেকে ওয়েডসন প্রথম গোলটি করেন ১-০। নিজের দ্বিতীয় গোলটিও আরো সুন্দর এবং চোখে লাগার মতো। শাহেদের লম্বা পাস থেকে ওয়েডসন দারুণ শটে গোল করেছেন ২-০। দুই গোলে এগিয়ে থাকায় স্বস্তি নিয়ে মাত্র ১৫ মিনিট কাটিয়েছে শেখ জামাল। তার পরই সব কিছু লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে সকার ক্লাব। ম্যাচের ৩২ মিনিটে ভুল করে বসেন শেখ জামালের ডিফেন্ডার দিদার। তিনি ব্যাকপাস করেন, কিন্তু সে বল কেউ ধরতে পারেনি। সকার ক্লাবের চুকা চার্লসের পায়ে লেগে শেখ জামালের জালে বল জড়িয়ে যায় ১-২। অপ্রত্যাশিত গোল হজমের হতাশা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আবার গোল হজম করে শেখ জামাল। রমজানের ফ্রিকিক থেকে কাব্বা জোবা হেড করেন, বল শেখ জামালের জালে ২-২। চার মিনিটে দুই গোল হজমের দৃশ্য দেখে শেখ জামাল যেন হতবাক। পাল্টা আক্রমণে শেখ জামালের সামনে বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন সকার ক্লাবের গোলকিপার নেহাল। শেখ জামালের ভাগ্যটা ভালো ছিল না বোধহয়। এক দিকে ম্যাচ জেতাতে হবে আর অন্যদিকে ওয়েডসনের হ্যাটট্রিকের সুযোগ। ৬৮ মিনিটে সে সুযোগ পেয়েছিলেন জামালের ওয়েডসন। কিন্তু তার হেড ক্রসবার ঘেঁষে বাইরে চলে যায়। আফসোসে ফেটে পড়লেন শেখ জামালের কোচ-কর্মকর্তারা। আবারও ওয়েডসনের শট সকার ক্লাবের ক্রসবার ঘেঁষে বাইরে যায়। বিপদ কাটিয়ে ফেনীর দলটি ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় মরিয়া হয়ে উঠে। কিন্তু দলের চুকা চার্লস এবং কাব্বা জোবা শেখ জামালের বক্সের ভেতরে বল পেয়ে পোষ্টে রাখতে পারেননি। শেষ মিনিটে সকার ক্লাবকে জেতানোর সুযোগ পেলেন সকারের ল্যান্ডিং। তিনিও জালে বল রাখতে পারলেন না। বলতে গেলে শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচ গেছে কাল। অথচ শেখ জামালের লিগ শিরোপা জয়ের জন্য আর সকার ক্লাব রেলিগেশন থেকে বাঁচার জন্য লড়াই করছে। প্রথমপর্বে ৪-২ গোলে জিতেছিল শেখ জামাল। ১২ খেলায় ২৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে শেখ জামাল। সকারের ১২ খেলায় ৮ পয়েন্ট। আজকের খেলা ঃ আবাহনী ও মুক্তিযোদ্ধা (বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম, ৫টা ৩০)।