টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের শোকাবহ পারফরম্যান্স চলা অবস্থায়ই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেছিলেন, টুর্নামেন্ট শেষ হলে তারা দলে ‘অনেক পরিবর্তন’ আনবেন। স্বাভাবিকভাবেই এই কথায় অনুমানের আঙুলটা উঠেছিল কোচ শেন জার্গুনসেন ও অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের দিকে। মনে করা হচ্ছিল, জাতীয় ক্রিকেটের গুরুত্বপূর্ণ এই দু’টি পদে মেয়াদ শেষের আগেই পরিবর্তন আসবে। কিন্তু পরে সে অবস্থান থেকে বিসিবি সরে এসেছে বলেই জানা গিয়েছিল। এসব জানা-শোনা এবং দল নিয়ে স্থিতিশীল চিন্তায় বেশ বড় রকমের একটা ধাক্কা লেগে গেল গতকাল বিসিবিরই এক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রকে উদ্ধৃত করে ক্রিকইনফো জার্গুনসেনের ভবিষ্যত্ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করায়। সংবাদের সুরে পরিষ্কার যে, বোর্ডের উচ্চপদস্থ কেউ একজন বলছেন, তারা এই অস্ট্রেলীয় কোচের বদলে একজন ব্যাটিং বিশেষজ্ঞ হাই প্রোফাইল কোচ খুঁজছেন।
আর এই কথা নিয়েই দারুণ অস্বস্তিতে পড়েছে বিসিবি। বোর্ডের কেউই এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে রাজি হলেন না। তবে নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন কর্মকর্তা বললেন, জার্গুনসেনকে বাদ দেয়ার কোনো আলোচনাই নেই বোর্ডের ভেতর; নতুন কোচ খোঁজা তো অনেক দূরের ব্যাপার। একজন কর্মকর্তা বলছিলেন, ‘বোর্ড সভাপতি সর্বশেষ মিডিয়াতেই বলেছেন, আমরা কোচ বদলাবো এমন কোনো কথা নেই। বরং কোচিং দলকে শক্তিশালী করতে স্বল্প মেয়াদে বিশেষজ্ঞ কোচ আনার কথা ভাবছি। এরপর তো নতুন কিছু ঘটেনি। তাহলে কেন এরকম কথা উঠলো, আমরা বুঝতে পারছি না।’
বুঝতে পারুন আর নাই পারুন, কথাগুলোকে গুরুত্ব না দিয়ে পারছেন না বিসিবির বাকি কর্মকর্তারা। তারা বুঝতে পারছেন, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্রটি বেশ উচ্চপর্যায়েরই কেউ। ওই সূত্রটি পরিষ্কার করে দাবি করেছেন, বিসিবির কোনো কোনো পরিচালক এরই মধ্যে আরও ব্যাটিং অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কোচ খোঁজা শুরু করেছেন। এমনকি সেই হাই প্রোফাইল কোচকে জুন মাসের মাঝামাঝির আগেই দায়িত্ব দিতে চান বলেও বলেছেন! তবে সেরকম কোচ যে এতো দ্রুত খুঁজে পাওয়াটা কঠিন হবে, সেটা তিনি স্বীকার করেছেন। মূলত বোলিং কোচ হিসেবে জাতীয় দলের সঙ্গে যোগ দেয়া জার্গুনসেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ভারপ্রাপ্ত কোচ ছিলেন। সেখানে ভালো পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে ২০১৫ বিশ্বকাপ অবদি পূর্ণাঙ্গ কোচ করা হয় তাকে। দায়িত্ব পাওয়ার পরও শ্রীলঙ্কা সফরে ভালো পারফরম্যান্স এবং ঘরের মাটিতে নিউজিল্যান্ডকে হোয়াইট ওয়াশ করে তিনি নিজেকে প্রমাণ করেছিলেন। এখন গুঞ্জন হল, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ব্যর্থতায় ম্লান হয়ে যেতে পারে সব সাফল্য।
বিসিবির অনেকের শঙ্কা হল, বোর্ড এটা না ভাবলেও এসব কথাবার্তার ফলে ব্যাপারটা সত্যি হয়ে যেতে পারে। শেন জার্গুনসেন যখন জানতে পারবেন, বোর্ডের এক বা একাধিক পরিচালক তাকে আর দায়িত্বে দেখতে চান না, তখন তিনি নিজে থেকেই সরে যেতে চাইতে পারেন। এ ব্যাপারে বোর্ডের এক কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বললেন, ‘অনেক সময় রটনা শুনেও ঘটনা ঘটে। এক্ষেত্রে আমার শঙ্কাটা হল, এই খবর দেখে জার্গুনসেন অস্বস্তিতে পড়ে গিয়ে উল্টো নিজেই ভবিষ্যত্ নিয়ে ভাবতে শুরু করতে পারে। সে অবস্থায়ও কাজ চালিয়ে গেলেও আমাদের জন্য ভালো হবে না সেটা।’
অবশ্য এসব কথাবার্তার আগেই জার্গুনসেন বলেছিলেন, তিনি নিজের ভবিষ্যত্ নিয়ে ভাবছেন। তিনি বুঝতে পারছেন, তাকে ঘিরে একটা অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তাই বলছিলেন, ‘এটাকে আদর্শ পরিস্থিতি বলা যাবে না। অবশ্য আমি পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই বুঝতে পারি, আমাকে নিয়ে কিছু দুশ্চিন্তা আছে। আমি বাস্তবতাটা বুঝি। আমি নিজে কখনো টেস্ট খেলিনি; তাই পারফর্ম করে, দলের জন্য কঠোর পরিশ্রম দিয়েই শুধু নিজেকে প্রমাণ করতে পারি আমি। তবে আমি এজন্য খুশি যে, এই পরিস্থিতি সত্ত্বেও দলের সব খেলোয়াড়, বাকি সাপোর্ট স্টাফরা সবাই দারুণ ইতিবাচক আছে।’ তবে এই ইতিবাচকতা বিসিবির ওই কর্মকর্তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু না। তিনি বরং বিশ্বাস করেন, যে আস্থা নিয়ে জার্গুনসেনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল, তা পূরণ করতে পারেননি এই সাবেক বোলিং কোচ।
