পিতার কক্ষে কন্যার বৈঠক

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:১১
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত আসলে প্রতিঘাত করার মত ক্ষমতা বাংলাদেশের থাকতে হবে। তিনি বলেন, আমরা কারো সঙ্গে যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই। তবে কেউ যদি আমাদের সার্বভৌমত্বে আঘাত করে, অবশ্যই প্রতিঘাত করার মত ক্ষমতা থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য সেই সামর্থ্য অর্জন করা একান্তভাবে প্রয়োজন, আর আমরা সে ব্যাপারে সচেতন। ইতিমধ্যে আমরা এ ক্ষেত্রে অনেক পদক্ষেপও গ্রহণ করেছি। খবর বাসসের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল রবিবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ভাষণকালে এ কথা বলেন। মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন প্রতিরক্ষা সচিব কাজী হাবিবুল আউয়াল। আধুনিক ও যুগোপোযোগী সশস্ত্র বাহিনী গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, তার সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারে এমন সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সশস্ত্র বাহিনীকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের অন্যান্য দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা এবং কাজ করতে হবে। কাজেই আমরা এমন একটি সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলতে চাই যারা বিশ্বের সংগে তাল মিলিয়ে চলতে পারে। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে প্রণীত ১৯৭৪ সালের প্রতিরক্ষা নীতির প্রেক্ষাপটে ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’ এর আওতায় তিন বাহিনীর পুনর্গঠন ও আধুনিকীকরণের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দিয়ে কাজ করার জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক দল নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ক্ষমতায় আসে, কিন্তু প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তারা আসেন দীর্ঘ সময়ের জন্য। শেখ হাসিনা বলেন, একটি দল নির্বাচনী ইস্তেহারের মাধ্যমে মানুষকে অঙ্গীকার দিয়ে সরকার গঠন করে, তাই আপনাদের (সরকারি কর্মকর্তা) সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নে আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সংগে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা আমাদের দায়িত্ব। আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে তখনই এই দায়িত্ববোধ থেকেই জনগণের জন্য কাজ করেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিশ্ব সমপ্রদায়ের কাছে প্রাকৃতিক বা অন্যান্য বিপর্যয় মোকাবেলায় মডেল রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত। বিপর্যয় থেকে জনগণকে রক্ষা করার এ সাফল্য আমাদের ধরে রাখতে হবে। শেখ হাসিনা দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশ ২০৪১ সালের মধ্যে অবশ্যই একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে। বঙ্গবন্ধুর ব্যবহূত টেবিলে বসে অফিস করলেন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু যে কক্ষে ও যে টেবিলে মন্ত্রিসভার বৈঠক করতেন, সেই ঐতিহাসিক টেবিলে বসেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ভাষণ দেন। প্রতিরক্ষা সচিব তার সূচনা বক্তৃতায় জানান, ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু এই ভবনকে প্রধানমন্ত্রীর দফতর হিসাবে ব্যবহার করতেন এবং এখানে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠক বসত। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ভবনে যে কক্ষে বসে মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অফিস করতেন সে কক্ষ পরিদর্শন করেন। সভায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, মুখ্য সচিব আবদুস সোবহান শিকাদার, তিন বাহিনীর প্রধানগণ এবং সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আইডিবি’র প্রতি আহবান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২১ সাল নাগাদ ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গঠনে বাংলাদেশের প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি)’র প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকার জনগণের মৌলিক অধিকার পূরণের মাধ্যমে ২০২১ সাল নাগাদ ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা এ উদ্যোগে আইডিবি’র অধিকতর সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করি।’ সফররত আইডিবি’র প্রেসিডেন্ট আহমত মোহাম্মদ আলী গতকাল সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাত্ করলে তিনি এ অনুরোধ করেন। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিল সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ কথা জানান।