সালিশে হামলা দুই ভাই নিহত

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:১৩
নরসিংদীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে শালিস চলাকালে হামলার ঘটনা ঘটেছে। রায়পুরা উপজেলার মরজাল গ্রামে গত শনিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এসময় প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন গ্রামের একবর আলী প্রধানের দুই ছেলে আব্দুল হালিম (৪৫) ও তার ছোট ভাই জজ মিয়া (৩৫)। পরে রাত ৯ টার দিকে চিকিত্সাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুই ভাই মারা যান। এ ঘটনায় গতকাল রবিবার রায়পুরা থানায় হত্যা মামলা হলে পুলিশ প্রধান আসামিসহ ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে। এদিকে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার শত শত লোক নিহতদের বাড়িতে ভিড় জমান। পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ মরজালের গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে বলে জানা গেছে। প্রসঙ্গত, নিহত হালিম ও জজ মিয়া মরজাল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোখলেছুর রহমান মোক্তারের আপন ভাই। এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সাড়ে তিন শতাংশ জমি নিয়ে প্রতিপক্ষ ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি ডাক্তার সুরুজ মিয়ার সাথে নিহত হালিম, জজ মিয়া ও তাদের পিতা একবর আলীর বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানের লক্ষ্যে শনিবার সকাল ১১টায় মরজাল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন সুরুজ মিয়ার বাড়িতে শালিস বসে। উভয়পক্ষের সম্মতিক্রমে সেখানে নরসিংদী জজ কোর্ট থেকে এ্যাডভোকেট মাসুদুর রহমানের নেতৃত্বে একটি কমিশন উপস্থিত ছিল। শালিস শুরু হলে উভয়পক্ষের লোকজনের মধ্যে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে সুরুজ মিয়ার নেতৃত্বে তার ছেলেরা পিছন দিক থেকে হালিম এবং জজ মিয়াকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের প্রথমে জেলা হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে যাওয়া হয়। শালিসে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুল জব্বার খান, শহীদ ভেন্ডার, রুস্তম ও কালা মিয়া প্রধান জানান, শান্তিপূর্ণ দরবার চলাকালে হঠাত্ পিছন দিক থেকে পরিকল্পিতভাবে হালিম এবং জজ মিয়াকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। তারা এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন। নিহত হালিমের স্ত্রী বিলকিছ বেগমও স্বামী হত্যার বিচার চেয়েছেন। এ ব্যাপারে নিহতদের চাচা কালা মিয়া প্রধান বাদী হয়ে ১২ জনকে আসামি করে রায়পুরা থানায় হত্যা মামলা করেছেন। বিকালে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশ মামলার প্রধান আসামি সুরুজ মিয়া, লিটন, মাজেদুল, খোকন, আরিফুল, রুবেল, সাইফুল, আসাদ ও বাদলকে গ্রেফতার করেছে। রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল ইসলাম বলেন, এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।