বিএনপি-জামায়াত আবারো ইতিহাস বিকৃত করছে

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:২১
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় ১৪ দলের নেতৃবৃন্দ বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার মারা গেছে। বিএনপি যতই আন্দোলনের হুমকি-ধামকি দিক না কেন মৃত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আর ফিরে আসবে না। বর্তমান সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নেতৃবৃন্দ বলেন, জনগণের পাশাপাশি নিজ দলের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে সাড়া না পেয়ে বিএনপি এখন হতাশ। হতাশাগ্রস্ত এই দলের দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র কখনোই সফল হতে দেবে না আওয়ামী লীগ। তবে বিএনপিকে ডুবানোর জন্য খালেদা জিয়ার পুত্রই যথেষ্ট। বিএনপি-জামায়াত আবারো ইতিহাস বিকৃত করছে। গতকাল রবিবার বিকালে সাভার বাসস্ট্যান্ডে বিএনপি-জামায়াতের দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ১৪ দলের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় নেতৃবৃন্দ এ কথা বলেন। সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মিসেস হাসিনা দৌলার সভাপতিত্বে জনসভায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, জাতীয় পার্টির (জেপি) মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক নুরুর রহমান সেলিম, তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব এম.এ আউয়াল, বাসদের আহ্বায়ক রেজাউর রশীদ খান, ন্যাপের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রশীদ সরকার, গণআজাদী লীগের সহ-সভাপতি শহীদুল ইসলাম, ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. এনামুর রহমান প্রমুখ। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বিএনপির উদ্দেশে বলেন, ২০১৯ সালের ২৯ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন হবে। কাজেই নির্বাচনের জন্য আপনাদের ৫ বছর অপেক্ষা করতে হবে। আপনারা প্রস্তুত হোন। এ ব্যাপারে যদি আলোচনা করতে চান, তাহলে সংলাপের জন্য আমরা রাজি আছি। তিনি বলেন, নির্বাচনে অংশ না নিয়ে খালেদা জিয়ার মাথা গরম হয়ে গেছে। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বঙ্গবন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়তে শুরু করেছিলাম। পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে আমাদের সেই কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। কেউ যদি দেশের বড় ক্ষতি করে থাকে তাহলে তা করেছেন জিয়াউর রহমান। ধর্মভিত্তিক রাজনীতি ও যুদ্ধাপরাধীদের রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন তিনি। তার স্ত্রী খালেদা জিয়াও যুদ্ধাপরাধীদের গাড়িতে পতাকা তুলে দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, বিএনপি একুশে আগস্টে বোমা হামলা, ৫০০ জায়গায় একসঙ্গে বোমা বিস্ফোরণ ও দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার সাথে জড়িত। আমরা বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করেছি, যুদ্ধাপরাধীদের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছি, এ সকল অপরাধের বিচারও আমরা করবো। তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট ইতিহাসকে আবারো বিকৃত করছে। ‘আমার আর কথা বলতে ইচ্ছা হয় না’ মর্মে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শনিবারের বক্তব্যের সমালোচনা করে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বলেন, তার এখন উপলব্ধি হয়েছে যে, দলের নেতাকর্মীরাও কথা কেউ শোনে না। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার অর্বাচীন ছেলের বক্তব্যে বিএনপির ক্ষতি হচ্ছে। আমাদের কিছু হচ্ছে না। আজকে আবার আন্দোলন করার হুমকি দিচ্ছে। তবে খালেদা জিয়ার আন্দোলনের ডাকে কাজের বুয়া ছাড়া আর কেউ আসে না। বিএনপি নেত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, মাথা ঠাণ্ডা রাখুন। আপনার দল ডুবানোর জন্য আপনার ছেলেই যথেষ্ট। আর কেউ লাগবে না। নির্বাচন হবে ৫ বছর পর ২০১৯ সালে। আমি এর আগেও বলেছি এখনও বলছি এর আগে কোন নির্বাচন হবে না। তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার মারা গিয়ে আজিমপুর গোরস্তানে গেছে। এটা আর জীবিত হবে না। দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, সাবধান থাকবেন, মানুষকে কষ্ট দেবেন না, চাঁদাবাজি করবেন না। যদি করেন তাহলে মানুষ আমাদের ক্ষমা করবে না। দুই নম্বর লোক জায়গা দেবেন না। আমরা দ্বিতীয়বারের মত সরকার গঠন করেছি এখন অনেক লোক আসবে। তিনি বলেন, যেকোন সময় দুর্যোগ আসতে পারে, তাই প্রস্তুত থাকতে হবে। জাতীয় পার্টির (জেপি) মহাসচিব শেখ শহিদুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন বর্জন, সংসদ বর্জন ও হরতালের রাজনীতি চলতে পারে না। দেশকে এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক নতুন সংস্কৃতি চালুর আহ্বান জানান তিনি।