সিডরে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলবর্তী এলাকায় ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের (আইডিবি) আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় স্কুল-কাম-সাইক্লোন সেন্টার (এসসিসিএস) নির্মাণ প্রকল্প সফলতার সাথে বাস্তবায়ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সংস্থার প্রেসিডেন্ট ড. আহমেদ মোহাম্মদ আলী। গতকাল সোমবার রাজধানীর আইডিবি ভবনে ফায়েল খায়ের (উত্তম কাজ) নামের এ প্রকল্পের অংশ হিসেবে ২৪টি সাইক্লোন সেন্টারের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
আইডিবি প্রেসিডেন্ট বলেন, অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে। এই স্বচ্ছতা বজায় রেখে প্রকল্পের বাকী কাজ সফলতার সাথে শেষ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় সিডরের আঘাতে দেশের উপকূলবর্তী এলাকা বরিশাল, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী, পিরোজপুর ও ভোলায় ব্যাপক ক্ষতি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আইডিবি এসব এলাকায় ১৮০টি স্কুল-কাম-সাইক্লোন সেন্টার নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও জরুরী ত্রাণ দিতে ১৩ কোটি মার্কিন ডলারের সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসে।
সাইক্লোন সেন্টার নির্মাণের লক্ষ্যে আইডিবি বাংলাদেশ সরকারের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তি মোতাবেক প্রতিশ্রুত সহায়তার ১১ কোটি ডলার দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ১৩ জেলার ৪০ উপজেলায় ১৮০টি সাইক্লোন সেন্টার নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বাকী ২ কোটি ডলার ক্ষতিগ্রস্তদের জরুরী ত্রাণ ও পুনর্বাসনে ব্যয় করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রথম ধাপে খুলনা ও বাগেরহাটে ২৪টি সাইক্লোন সেন্টারের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ১৪টি ধাপে পর্যায়ক্রমে আরো ১৫৬টি সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি সাইক্লোন সেন্টারে ২৪০ জন শিক্ষার্থী পড়াশুনা করতে পারবে। আর দুর্যোগের সময় ৫০০টি গবাদিপশু ও দুই হাজার লোক আশ্রয় নিতে পারবে।
সফররত আইডিবি প্রেসিডেন্ট ঢাকায় বসবাসরত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে ‘হাজী মাংস’ বিতরণে অংশগ্রহণ করেন বলে জানানো হয়। সংস্থাটির পক্ষ থেকে এ বছর ঢাকা, চট্টগ্রাম ও মংলায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ হিমায়িত হাজী মাংস বিতরণ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে এসসিসিএস প্রকল্প সমন্বয়ক ড. মোহাম্মদ সালিম ও প্রকল্প পরিচালক সুফি মোস্তাক আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
