বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি ও চাহিদা কমে যাওয়ায় লোকসানে পড়েছেন বরফ কল ব্যবসায়ীরা। মূল্য বৃদ্ধির কারণে বিদ্যুতের বিল দ্বিগুণ হয়েছে। বরফ তৈরির অন্যতম উপাদান হচ্ছে বিদ্যুত্। মাছের আকাল হওয়ায় দিনদিন বরফের ব্যবহারও কমে এসেছে। লোকসানের কারণে অনেকেই বরফের কল বন্ধ করে দিয়ে অন্য ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছেন। চট্টগ্রামে সরকারি বরফ কলটি গত আট বছর যাবত্ লোকসানের কারণে বন্ধ রয়েছে।
সমুদ্র থেকে আহরিত অধিকাংশ মাছ চট্টগ্রামে খালাস হয়ে থাকে। নগরীর ফিশারি ঘাট এলাকায় প্রতিদিন শতশত ফিশিং ট্রলার থেকে মাছ খালাস হচ্ছে। আড়তে মাছের মজুদ ও ফিশিং ট্রলারে প্রতিদিন হাজার হাজার টন বরফ ব্যবহার হচ্ছে। ফিশারি ঘাট এলাকার সমুদ্র থেকে আহরিত মাছ খালাস ও গুদামে মজুদে ব্যবসার কারণে শতাধিক বরফ কল নির্মিত হয়েছে।
বরফ কল ব্যবসায়ীরা জানান, বরফ ব্যবসায় এখন চরম মন্দা চলছে। সাগর থেকে মাছ আহরণ অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় বরফের ব্যবহার হচ্ছে না। আড়তদাররা সামান্য কিছু বরফ ব্যবহার করছে। তা দিয়ে ফ্যাক্টরি চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা জানান, বরফ তৈরির প্রধান কাঁচামাল হচ্ছে বিদ্যুত্, গ্যাস, লবণ ও পানি। এই চারটি উপাদানের সমন্বয়ে বরফ তৈরি হয়। আল আমিন আইচ কলের ম্যানেজার মামুন জানান, বিদ্যুতের মূূল্য বৃদ্ধি বরফ ব্যবসাকে লোকসানে ফেলে দিয়েছে। বরফ কলগুলোতে প্রচুর বিদ্যুতের ব্যবহার হয়। তার দুইটি বরফ কল রয়েছে। বরফ তৈরির মেশিন রয়েছে দুইটি। ছোট কারখানা হওয়া সত্ত্বেও প্রতিমাসে ৩ লাখ টাকা বিদ্যুত্ বিল দিতে হচ্ছে। এখন চাহিদা কম থাকায় উত্পাদনও কম; কিন্তু বিদ্যুত্ বিল কমেনি। অনেক বরফ কলে অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে প্রচুর বিদ্যুত্ চুরি হচ্ছে। পিডিবির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবৈধ বিদ্যুত্ সংযোগ থেকে আর্থিক সুবিধা লাভ করছে বলে দাবি করেন তিনি। মক্কা বরফ কলের মালিক ফরিদ আহমেদ জানান, বর্তমানে মাছের আড়তগুলোতে দৈনিক ১৫ থেকে ২০ ব্লক বরফ বিক্রি হচ্ছে। ফিশিং ট্রলারে বরফের চাহিদা কমে গেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, নগরীর ফিশারি ঘাট ও কর্ণফুলীর দক্ষিণ তীরে শতাধিক বরফ কল রয়েছে। ফিশারি ঘাট এলাকায় কর্ণফুলী তীরে নতুন সড়ক নির্মিত হওয়ায় খালের গতি পরিবর্তন হয়েছে। ফিশিং ট্রলারগুলো এখন ফিশারি ঘাটে নোঙর করতে পারে না। ফলে সমুদ্রগামী ছোট-বড় ফিশিং ট্রলারগুলো কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ তীরে নির্মিত কল থেকে বরফ সংগ্রহ করে নিয়ে যায়। ফলে ফিশারি ঘাটের বরফ কলগুলো লোকসানে পড়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান, বরফ কলগুলোতে মাসে সর্বনিম্ন ২ লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১৫/২০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিদ্যুত্ বিল আসে। এক ব্লক বরফ তৈরি করতে ২৪ ঘণ্টা সময় লাগে। ১০ ব্লকে এক টন বরফ হয়। আর এক টন বরফ বিক্রি হয় ১ হাজার টাকা। তবে বর্তমানে চাহিদা কম থাকায় প্রতি ব্লক বরফ ৬০/৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে বাংলাদেশ মত্স্য উন্নয়ন কর্পোরেশনের দৈনিক ৩০ টন উত্পাদন ক্ষমতাসম্পন্ন সরকারি বরফ কলটি গত ৮ বছর যাবত্ বন্ধ রয়েছে। ক্রমাগত লোকসানের কারণে বরফ কলটি বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বন্ধ থাকা সরকারি এই বরফ কলটি মাছের হিমাগার করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
