কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার এগারসিন্দুরে দুটি প্রাচীন সমাধির অনন্য স্থাপত্য শিল্পের অনন্য নিদর্শন হয়ে রয়েছে শাহ্ মাহমুদ মসজিদ ও সাদী মসজিদ। সরকারি কোন পৃষ্ঠপোষকতা না থাকায় অযত্নে-অবহেলায় পড়ে রয়েছে প্রাচীন এ ঐতিহ্যগুলো।
এগারসিন্দুরের প্রাচীন স্থাপত্য হচ্ছে শাহ্ মাহমুদ মসজিদ ও বালাখানা। গবেষকদের মতে এটি ১৬০০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে নির্মিত হয়। বর্গাকৃতির এ মসজিদটির প্রত্যেক বাহু ৩২ ফুট। চার কোণায় ৪টি বুরুজ রয়েছে। রয়েছে একটি বিশাল গম্বুজ। দু’পাশে দুটি সরু মিনার রয়েছে। ভিতরে পশ্চিমের দেয়ালে ৩টি মেহরাব আছে। শাহ্ মাহমুদ এ মসজিদ ও বালাখানা নির্মাণ করেছিলেন বলে এর নামকরণ হয় শাহ্ মাহমুদ মসজিদ।
সম্রাট শাহজাহানের রাজত্বকালে ১৬৪২ খ্রিষ্টাব্দে নির্মিত হয় সাদী মসজিদ। পোড়ামাটির অলংকরণে সমৃদ্ধ এ মসজিদটি সম্পূর্ণ ইটের তৈরি। এটি এক গম্বুজ বিশিষ্ট বর্গাকৃতি মসজিদ। প্রত্যেক বাহুর দৈর্ঘ্য ২৭ ফুট। চারপাশে চারটি বুরুজ। পূর্ব দেয়ালে ৩টি এবং উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে ১টি করে প্রবেশ দ্বার রয়েছে। প্রবেশ পথগুলোর চারদিকে পোড়ামাটির চিত্র ফলকের কাজ রয়েছে। ভিতরে ৩টি অনিন্দ্য সুন্দর মেহরাব রয়েছে যা টেরাকোটার দ্বারা অলংকৃত।
১০৬২ হিজরির রবিউল আউয়াল মাসে শাহজাহান বাদশা গাজীর রাজত্বকালে শেখ নিরুর পুত্র সাদীর উদ্যোগে এ মসজিদটি নির্মিত হয় বিধায় এর নামকরণ হয় সাদী মসজিদ। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে প্রাচীন এ স্থাপত্যগুলো দীর্ঘদিন ধরে রাখা যাবে বলে ধারণা স্থানীয়দের।
