আমরা কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের হাজার হাজার শিক্ষক-কর্মচারী এখন পর্যন্ত ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পাইনি। বেতন বলতে তো স্কেলের ওই টাকা কয়টা-ই। বর্তমান বাজারে এ টাকা কয়টাও যদি এক মাসেরটা আরেক মাসের ৩০ তারিখেও না পাওয়া যায় তাহলে কীভাবে বেঁচে থাকবো বুঝতে পারছি না। বেতনের টাকা পনেরো দিনের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। বাকি সময়টা ধার-দেনা আর দোকানে বাকিতে খেতে হয়। বেতনের টাকা নির্ধারিত কোনো তারিখে পাওয়ার নিশ্চয়তা না থাকায় কেউ ধার দিতে চায় না। দোকানদার বাকি দিতে চায় না। শিক্ষকদের সামাজিক একটা মর্যাদা আছে। আর্থিক দৈন্যের কারণে সেই সম্মানটুকু বজায় রেখে চলা সম্ভব হয় না।
গত ৫ মার্চ দুই মাসের বাচ্চাটার হঠাত্ মারাত্মক নিউমনিয়া ধরা পড়লে পার্শ্ববর্তী ক্লিনিকের ডাক্তার তখনই উচ্চতর চিকিত্সার জন্য খুলনা অথবা বরিশালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। পকেটে টাকা নেই ; দুশ্চিন্তায় মাথাটা খারাপ হয়ে যাওয়ার উপক্রম। ক্লিনিকের অ্যাম্বুলেন্সে বাচ্চাকে নিয়ে খুলনা গেলাম। আল্লাহর দয়ায় বাচ্চা সুস্থ হলো কিন্তু ক্লিনিকের পাওনা এখনও পরিশোধ করতে পারিনি। মাঝে মাঝে জীবন খুব বিষময় মনে হয়। মনে হয় এর চেয়ে পড়ালেখা না করে রিকশা চালালেও সময়মতো অন্তত নগদ পয়সায় দুমুঠো খেতে পারতাম। পাওনাদারের কথা শুনতে হতো না।
জেনারেল কলেজের বেতন দেরি হলে সে-খবর পত্র-পত্রিকায় আসে, কিন্তু কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেতন দেরি হলে সেটা তেমন গুরুত্ব দিয়ে কেউ লেখেন না। সময়মতো বেতনের টাকাটা পেলে বেইজ্জতির হাত থেকে অন্তত রক্ষা পাবো। শিক্ষকদের সম্মান বৃদ্ধি পেলে জাতির সম্মানই বৃদ্ধি পাবে। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
সোহরাব হোসেন জুয়েল,
প্রভাষক,
ব্যবস্থাপনা পিরোজপুর ইসলামিয়া টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ, বাইপাস সড়ক, পিরোজপুর
