নওগাঁর ১৪ হাজার হেক্টর বোরো জমি ফেটে চৌচির

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০১৪, ২২:৫৪
জেলার নিয়ামতপুরে বিদ্যুত্ উপকেন্দে র ট্রান্সফরমার গত সাতদিন ধরে বিকল হয়ে পড়ে থাকলেও এটি মেরামত কিংবা নতুন ট্রান্সফরমার প্রতিস্থাপন করা হয়নি। পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির গড়িমসির কারণে উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের প্রায় ২শ’ গভীর নলকূপে সেচ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়েছে। সেচের অভাবে প্রায় ১৪ হাজার হেক্টর বোরো ধানের জমি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। মরে যাচ্ছে ধান গাছ। শিগগির জমিতে সেচ দিতে না পারলে ধানে চিটা হয়ে উত্পাদন ব্যাহত হতে পারে। এদিকে নিরবচ্ছিন্ন সেচের দাবিতে উত্তেজিত কৃষকরা গত শনিবার বিকালে সুলতানপুরে বিদ্যুত্ উপকেন্দে হামলা চালিয়েছে। কৃষকরা জানায়, বিদ্যুত্ উপকেন্দে র পাওয়ার ট্রান্সফরমার গত মঙ্গলবার সকালে নষ্ট হয়ে যায়। একটানা ৩৩ ঘণ্টা বিদ্যুত্ বিচ্ছিন্ন থাকে ৫টি ইউনিয়নের বোরো মাঠ। পরবর্তীতে বিকল্পভাবে বিদ্যুত্ সংযোগ দেয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ৫-৬ ঘণ্টা বিদ্যুত্ সংযোগে খুবই অল্প পরিমাণ জমির সেচ চাহিদা মেটে। প্রসঙ্গত, প্রতিটি গভীর নলকূপে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ পেলে দেড়শ’ থেকে আড়াইশ’ বিঘা জমির সেচ দেয়া সম্ভব। সরেজমিনে উপজেলার পাঁড়ইল ইউনিয়নের বেগুনতাড়া, খড়িকাডাঙ্গা, চাঁন্দইল মাঠ, রসুলপুর ইউনিয়নের দামপুরা, নিমদীঘি, টগরইল মাঠ ও বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বালাতৈড় ও খড়িবাড়ি মাঠ ঘুরে দেখা গেছে সেচ সংকটের কারণে বোরোর জমি ফেটে গেছে। ধান গাছ বিবর্ণ হয়ে মরে যাচ্ছে। বরেন্দ বহুমুখী সমবায় সমিতির বনগাঁপাড়ার অপারেটর সফিকুল জানান, দিনে ৫/৬ ঘণ্টা বিদ্যুত্ থাকে। এতে করে গভীর নলকূপের আওতার জমিগুলোর ৫ ভাগ জমিতেও সেচ দেয়া যায় না। পানি নেয়ার জন্য কৃষকরা কে কার আগে সিরিয়াল নেবে এ নিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখে। এতে করে যে কোন সময় ঘটতে পারে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। বরেন্দ বহুমুখী সমবায় সমিতি প্রকল্পের সহকারী প্রকৌশলী মতিউর রহমান বলেন, সমস্যা সমাধানে কর্তৃপক্ষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নিয়ামতপুর পল্লী বিদ্যুত্ উপকেন্দে র কর্মকর্তা নূরুল ইসলাম সরকার জানান, পাওয়ার ট্রান্সফরমার তেল নিয়ে কিছুটা সমস্যা দেখা দিয়েছে। সমস্যা নিরসনে পাওয়ার ট্রান্সফরমার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন আসছে এবং এর সমাধান দ্রুত হবে। নওগাঁ পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির এজিএম হাফিজুর রহমান কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ট্রান্সফরমার প্রতিস্থাপনে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।