বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পাদিত বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা কাঠামোগত চুক্তি (টিকফা) পরিষদের প্রথম বৈঠকশেষে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি মাইকেল ডিলানি সাংবাদিকদের বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জিএসপি (অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক সুবিধা) ফিরে পেতে কর্মপরিকল্পনার আলোকে বাংলাদেশের কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে। তবে আরও কাজ করতে হবে। শ্রম আইন বাস্তবায়ন, কারখানার নিরাপত্তা এবং শ্রমিক অধিকার রক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ অবশিষ্ট রয়ে গেছে। এ বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করার ব্যাপারে তত্পর হতে হবে।
গতকাল সোমবার টিকফা পরিষদের বৈঠকশেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা, বাণিজ্য সচিব মাহবুব আহমেদ এবং শ্রম সচিব মিকাইল শিপারসহ যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য দফতরের (ইউএসটিআর) প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকারের বিষয়ে জানতে চাইলে মাহবুব আহমেদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক পণ্যের বিনাশুল্কে প্রবেশাধিকার নেই। এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) হিসেবে কিছুটা সুবিধা বর্তমানে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে তারা এ সুবিধার আওতা বাড়াবে। সেক্ষেত্রে এলডিসিভুক্ত দেশ হিসেবে বাংলাদেশও উপকৃত হবে। বাণিজ্য সচিব আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের বাজারে সাব-সাহারান অঞ্চল ও আফ্রিকার কিছু দেশকে অতিরিক্ত সুবিধা দেয়। জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার হিসেবে বাংলাদেশকেও এ সুবিধা দেয়ার আহবান জানানো হয়েছে। বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছে ইউএসটিআর-এর প্রতিনিধি দল।
টিকফা পরিষদের প্রথম বৈঠক প্রসঙ্গে মাহবুব আহমেদ বলেন, বৈঠকে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জিএসপি ফেরত, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পণ্য ও সেবার শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার, বালি প্যাকেজ এবং ইস্তাম্বুল রোডম্যাপের বাস্তবায়নে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্র অগ্নি নির্বাপণ সংক্রান্ত পণ্যে শুল্ক কমানো, সরকারি টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনা, পেমেন্টে বা অর্থ পরিশোধে দীর্ঘসূত্রতা দূর করা, মেধাস্বত্ব আইন মানা এবং শ্রমিক অধিকার ও কারখানা নিরাপত্তার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছে।
মাইকেল ডিলানি বলেন, এটি টিকফা পরিষদের প্রথম বৈঠক। তাই এর সুফল বুঝতে কিছুটা সময় লাগবে। তবে দুদেশই তাদের সমস্যার কথা উত্থাপন করেছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সমাধানও হয়েছে। তবে পরবর্তীতে টিকফার সার্থকতা আরও অনুভূত হবে। তিনি বলেন, টিকফার মাধ্যমে দু দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত আলোচনার একটি সুযোগ তৈরি হলো।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক স্বস্তিদায়ক নয় বলে সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত যে বক্তব্য দিয়েছেন সে বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ড্যান মজীনা বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক গভীর। এর নমুনা হলো বাংলাদেশের টিকফা চুক্তি স্বাক্ষর।
প্রসঙ্গত, গত বছর ২৫ নভেম্বর ওয়াশিংটন ডিসিতে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যকার টিকফা চুক্তি স্বাক্ষর হয়। টিকফা দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আলোচনার প্রাথমিক ফোরাম। এ ফোরামের মাধ্যমে পরিবেশ, মেধাস্বত্ব রক্ষা, শ্রমিক অধিকার ও নিরাপত্তা এবং নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিয়ে আলোচনা করার কথা রয়েছে।
