উখিয়া-টেকনাফে দুর্যোগ ঝুঁকিতে লক্ষাধিক মানুষ

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০১৪, ২২:৫৬
আজ সেই ভয়াল ২৯ এপ্রিল। ১৯৯১ সালের এ দিনে কক্সবাজারের মহেশখালী, কুতুবদিয়া, চকরিয়া, পেকুয়াসহ বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের তাণ্ডবে সরকারি হিসাব মতেই ১ লাখ ৩৮ হাজার মানুষ প্রাণ হারান। অসংখ্য বাড়ি-ঘর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও দপ্তর লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। হাজার হাজার গবাদিপশুর মৃত্যু হয়। এ সময় হাজার হাজার মানুষ আশ্রয়স্থল হারালেও এখন পর্যন্ত উপকূলীয় জনজীবনের নিরাপত্তায় সরকারিভাবে পর্যাপ্ত কোন আশ্রয়স্থল নির্মিত হয়নি। উপরন্তু যে কয়টি আশ্রয় কেন্দ্র রয়েছে উপজেলা প্রশাসন তাও ব্যবহারের অনুপযোগী ঘোষণা করায় আকাশে মেঘ জমলেই আঁতকে উঠেন লক্ষাধিক মানুষ। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেছেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসন তত্পর রয়েছে। জানা গেছে, কক্সবাজারের বিস্তীর্ণ উপকূলীয় জনপদ উখিয়া উপজেলার সোনারপাড়া থেকে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত প্রায় ৮০ কিলোমিটার উপকূলীয় এলাকায় লক্ষাধিক মানুষের বাস। অধিকাংশই সহায়-সম্বলহীন এসব মানুষের দিন কাটে মাছ ধরার নৌকায় শ্রম দিয়ে। এই বিশাল দরিদ্র জনগোষ্ঠীর এক তৃতীয়াংশ উপকূলের ঝাউ বাগানে অনিশ্চিতভাবে বসবাস করলেও তাদের জীবনের নিরাপত্তার জন্য সরকার এখন পর্যন্ত কোন ধরনের উদ্যোগ নেয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। গতকাল সোমবার সকালে টেকনাফের উপকূলীয় এলাকা শাপলাপুর ও উখিয়ার চোয়াংখালী এলাকা ঘুরে দেখা যায়, চর দখল করে বসবাস করছে অসংখ্য পরিবার। বয়োবৃদ্ধ নূর আহমদ জানান, দুর্যোগের সময় আশে-পাশে কোন আশ্রয় কেন্দ্র না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে দিন যাপন করতে হয়। একইভাবে আক্ষেপ করে নূর আয়েশা নামের এক বিধবা মহিলা জানান, ঘূর্ণিঝড়ের উপক্রম হলে নিরাপদে আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য মাইকে ঘোষণা করলেও যাওয়ার কোন জায়গা না থাকায় এখানেই রাত কাটাতে হয়। টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিব উল্লাহ জানান, দুর্যোগকালীন সময়ে উপকূলের কিছু কিছু মানুষ আত্মীয়-স্বজনের বাড়ীতে আশ্রয় নিলেও অধিকাংশ পরিবারকে ঝুঁকি নিয়েই বসবাস করতে হচ্ছে। জালিয়াপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোছাইন চৌধুরী জানান, সোনারপাড়া থেকে মনখালী পর্যন্ত ৭টি আশ্রয় কেন্দ্র কাম-সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও তার অধিকাংশ এখন ঝুঁকিপূর্ণ। যে কারণে দুর্যোগের সময়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটাছুটি করেও অনেকেই আশ্রয় নিতে পারে না। এ ব্যাপারে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো, সাইফুল ইসলাম জানান, দুর্যোগের সময়ে উপকূলে বসবাসরত পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য সব রকমের ব্যবস্থা নেয়া হয়। ইতিমধ্যেই রূপপতি এলাকায় একটি নতুন আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।