জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যানের পদ থেকে এইচএম এরশাদ পদত্যাগ করেছেন, গতকাল সোমবার সকাল থেকে এমন খবর ছড়িয়ে পড়ে। দিনভর এনিয়ে বিভিন্ন মহলে জল্পনা-কল্পনা শেষে বিকালে গণমাধ্যমকে এরশাদ বলেছেন, ‘এটা স্রেফ গুজব। আমি কেন পদত্যাগ করবো, কার কাছে করবো, দলের সেই বীর পুরুষটা কে? আমি পার্টির সুপ্রিম অথরিটি। আমাকে ছাড়া দলের অস্তিত্ব থাকতে পারে?’
এরশাদ ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দিলেও জাপার দুই-একটি সূত্র দাবি করেছে, ক্ষুব্ধ এরশাদ গতকাল সকালে দলের মহাসচিব জিয়াউদ্দিন বাবলুর কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। সেখানে তিনি পদত্যাগের হুমকি দেন। পরে বিকালে বিষয়টি আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়। জিয়াউদ্দিন বাবলু বলেছেন, এরশাদের এই ধরনের কোনো চিঠি তিনি পাননি।
রবিবার রাজধানীর গুলশানে স্পেক্ট্রা কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত জাপার প্রেসিডিয়ামের সদস্যদের ও দলীয় সংসদ সদস্যদের যৌথ সভায় এরশাদের কড়া সমালোচনা করেন রওশন এরশাদসহ দলের বেশ কজন নেতা। এরশাদকে উদ্দেশ করে রওশন বলেছেন, ‘তুমি একরোখা, স্বৈরতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দল চালাও। ব্যক্তিগত কর্মচারীদেরও তুমি দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য বানিয়ে দাও। যখন যাকে খুশি প্রেসিডিয়াম সদস্য বানাও, যখন যাকে খুশি বের করে দাও। তোমার এ ধরনের একরোখা সিদ্ধান্তের কারণে আমাদেরকে আজ জনগণ গৃহপালিত বিরোধী দল বলছে। নির্বাচনের সময় তোমার দ্বি-মুখী আচরণের কারণে দলের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। একদিকে তুমি আমাকে বলেছো নির্বাচনে থাকতে, আরেকদিকে অন্যদের বলেছো নির্বাচন বর্জন করতে। তোমার কারণে দল আজ ডুবতে বসেছে। এভাবে একটি দল চলতে পারে না। জানা গেছে, ওই সভায় জাপার একজন নেতা দলে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও অতিরিক্ত মহাসচিবের পদ সৃষ্টির প্রস্তাব দেন।
যৌথ সভায় এসব বক্তব্যকে কেন্দ করেই গতকাল এরশাদের পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ে। এরশাদের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, রবিবারের বৈঠকেই মনঃক্ষুণ্ন হন তিনি। গতকাল দিনভর তার মন খারাপ ছিল। ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি পদত্যাগ করেছেন বলে গুজব ছড়ায়। অবশ্য ক্ষোভের কথা স্বীকার করে এরশাদ গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমি কিছুটা অসন্তুষ্ট; কিন্তু এই মুহূর্তে পদত্যাগের কোনো সিদ্ধান্ত আমার নেই। তাছাড়া আমি যদি পদত্যাগ করতে চাই, তাহলে পার্টির প্রেসিডিয়ামের মিটিং ডাকতে হবে। সেখানে আলোচনা করে আমি অব্যাহতি নিতে পারি।’
