বিদ্যুত্ সাশ্রয়ে সরকারি নির্দেশনাগুলো মনিটরিং হচ্ছে না। অপচয় ও চুরি দু’টি বেড়েই চলেছে। অফিস আদালত, শিল্প কারখানা ও আবাসিক খাতে বিদ্যুত্ ব্যবহারে প্রচুর অপচয় হচ্ছে। পিডিবি কর্মকর্তারা জানান, জনবল সংকটে মনিটরিং কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। যানবাহনের অপ্রতুলনায় দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া যাচ্ছে না।
জ্বালানি সংকট ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দেশের চাহিদা অনুপাতে বিদ্যুত্ উত্পাদন করা যাচ্ছে না। ফলে সংকটের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন বিতরণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকারিভাবে অনেকগুলো নির্দেশনা রয়েছে। এসব নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা গেলে বিদ্যুত্ সংকট অনেক লাঘব হতো। নিয়ম-নীতি না মেনেই বিদ্যুতের ব্যবহার হচ্ছে। অপচয় ছাড়াও চুরিও হচ্ছে দেদারছে। কিন্তু পিডিবি কর্মকর্তা ও কর্মচারী গাফেলতির কারণে বিদ্যুত্ সাশ্রয়ী নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়ন হচ্ছে না। আবার এসব নিয়মের সাথে তাদের জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে। নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে-অধিকতর বিদ্যুত্ ব্যবহার হয় এয়ারকুলার, ইস্ত্রি, পানির পাম্প বন্ধ রাখা, এয়ারকুলারের তাপমাত্র ২৪ ডিগ্রী সেলসিয়াসের মধ্যে রাখা, ওয়েল্ডিং মেশিন, স্টিল মিল, আর্ক ফার্নেস, ইন্ডাকশন ফার্নেস বন্ধ রাখা, বিদ্যুত্ সাশ্রয়ী এনার্জি বাল্ব ব্যবহার, দিনে বেলায় অফিস ও বাসা-বাড়িতে অযথা বৈদ্যুতিক বাতি, পাখা সচল না রাখা, রাত ৮টার পর দোকান-পাট, শপিং মল ও শিল্প-কারখানায় বিদ্যুত্ ব্যবহার বন্ধ রাখা, অফিস চলাকালীন দরজা, জানালা খোলা রাখা ও পর্দা গুটিয়ে রাখা এবং অপ্রয়োজনীয় আলোক সজ্জা না করা ইত্যাদি। এসব নির্দেশনা নিয়ে সরকারিভাবে ইলেক্ট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়া সচেতনতামূলক প্রচারণা চলছে। কিন্তু বিদ্যুত্ ব্যবহারে অপচয় রোধ করা যাচ্ছে না। নির্দেশনাগুলো মনিটরিংয়ের জন্য রয়েছে পিডিবি’র কর্মকর্তা-কর্মচারী ও মোবাইল টীম। অভিযোগ উঠেছে পিডিবি’র মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোন মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালিত হয় না। দোকানপাট ও শিল্প কারখানায় পিডিবি’র অসাধু লোকদের সহায়তায় বিদ্যুত্ অপচয় ও চুরি ক্রমশঃ বেড়েই চলেছে।
নানাভাবে বিদ্যুত্ অপচয় ও চুরি হচ্ছে। নগরীতে ব্যাটারিচালিত রিক্সা বেড়ে গেছে। বলতে গেলে ৮০ শতাংশ রিকশা ব্যাটারি চালিত হয়েছে। বিদ্যুতের ব্যবহার হচ্ছে এসব রিকশায়। জানা যায়, প্রতিটি ব্যাটারিচালিত রিক্সায় দিনে ৬০ থেকে ৭০ টাকার বিদ্যুত্ ব্যবহার হয়। চট্টগ্রাম মহানগরীর লক্ষাধিক ব্যাটারি চালিত রিক্সা রয়েছে। গার্মেন্টস ও ভারি শিল্প কারখানায় ট্রান্সফরমার কিনে ব্যবহার করতে হয়। অভিযোগ রয়েছে, ৫০ কেভি ধারণক্ষমতার ট্রান্সফরমারের অনুমোদন নিয়ে ১০০ কেভি ক্ষমতার ট্রান্সফরমার ব্যবহার করা হচ্ছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে মিটার বন্ধ রেখে বিদ্যুত্ ব্যবহার চলছে।
