বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি লে. কর্নেল (অব.) এ এম রাশেদ চৌধুরীর সম্পত্তি জব্দ করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসনা আফরোজার নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসন সোনাইমুড়ীতে রাশেদ চৌধুরীর ১১৫ শতাংশ সম্পত্তি জব্দ করে। এ ঘটনার পর এলাকাবাসী মিষ্টি বিতরণ করে উল্লাস প্রকাশ করেন। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের বিষয়ে সরকার গঠিত টাস্কফোর্সের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই সম্পত্তি জব্দ করতে সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নির্দেশ প্রদান করে।
উপজেলা কানুনগো আবুল কাশেম জানান, রাশেদ চৌধুরীর বাবা মৃত শিহাব উদ্দিন চৌধুরী নামে হাজীগঞ্জ উপজেলার সোনাইমুড়ী ২৪৬ মৌজার নাল, বাগান, ভিটি ও পুকুরে ১৩৬ নং খতিয়ানে ৯.২২৫০ একর সম্পত্তি রয়েছে। হিস্যা অনুযায়ী এর ১১৫ শতাংশ সম্পত্তি রাশেদ চৌধুরীর। এর মধ্যে রাশেদ চৌধুরীর বাড়ির ৩৯৩ দাগে ১২ শতাংশ, নালা ৬৩১ দাগে ৭৫ শতাংশ ও মাঠে ১১৭২ দাগে ২৮ শতাংশ সম্পত্তি জব্দ করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসনা আফরোজা বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীর সম্পত্তির উপর লাল পতাকা ও সাইনবোর্ড টানানো হয়েছে। সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) আবু হানিফ বলেন, যে কোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতির জন্য আমরা প্রস্তুত রয়েছি। এসময় সহকারী পুলিশ সুপার নাজমুল হাছান, হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহ আলম, ভূমি কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে রাশেদ চৌধুরীর চাচাতো ভাই শোহেব আহমেদ বলেন, রাশেদ চৌধুরীর বাবা ২ বিয়ে করেছেন। দুই পরিবারের মোট ২০ সন্তান রয়েছে। তিনি দাবি করে বলেন, সম্পত্তির সুষম বন্টন হয়নি।
এলাকাবাসীর পক্ষে সাবেক ইউপি সদস্য আবু তালেব ও মুন্সী মোহাম্মদ মনির তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, সম্পত্তি জব্দ করায় সরকারকে অভিনন্দন। কিন্তু পলাতক রাশেদ চৌধুরীর মৃত্যুদণ্ড না হওয়া পর্যন্ত এলাকার কলংকের দাগ মুছবে না।
প্রসঙ্গত, গত ৩ এপ্রিল চাঁদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন দক্ষিণ শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার আব্দুল বাহার আখন্দ সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশপত্র দেন। পুলিশ সুপার ৮ এপ্রিল হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ আলমকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ স্মারকলিপির মাধ্যমে গত ৯ এপ্রিল সম্পত্তি শনাক্ত করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অধিশাখা-১ এর স্মারক নং ৭৮৩ ও ৭৮৪ দেখা গেছে, সম্পত্তির বন্টননামার ভিত্তিতে রাশেদ চৌধুরীর প্রাপ্য জমি পৃথক করে ক্রোক ও বাজেয়াপ্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। রাশেদ চৌধুরীর ১ বোন ও ৮ ভাই রয়েছে বলে সেখানে উল্লেখ রয়েছে।
