জেলার হোমনা উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে এক হিন্দু যুবক মহানবী (সা.) সম্পর্কে কটূক্তি করার অভিযোগে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী হিন্দু সম্প্রদায়ের ২৮টি বাড়িঘরসহ মন্দির ভাংচুরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ডা. রামপদ দাস বাদী হয়ে গতকাল সোমবার ৫৫ জনের নাম উল্লেখসহ দেড় হাজার মানুষকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই হিন্দু যুবক উদ্দ্যেগ দাস ও তার সহযোগী নিবাস দাস নামে ২ জনকে এবং বাড়িঘর ভাংচুরের ঘটনায় উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে ১১ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাকশিতারামপুর গ্রামে হিন্দু যুবক উদ্দ্যেগ দাস ফেইসবুকে মহানবী (সা.) নিয়ে বিভিন্ন কটূক্তি করে লেখা প্রকাশ করেন। যা মুসলমানদের ধর্মীয় অনভূতিতে আঘাত হানে। বিষয়টি নিয়ে বাকশিতারামপুর ও মুরাদনগর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের স্থানীয়রা তার শাস্তির দাবিতে এলাকায় মিছিল করে। পরে গত রবিবার বিকালে উত্তেজিত জনতা উদ্দ্যেগ দাসসহ জেলেপাড়ার ২৮টি বাড়িঘর ও একটি মন্দির ভাংচুর করে। খবর পেয়ে থানার ওসি আসলাম সিকদারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দু পরিবারকে
সহায়তা প্রদান
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া গতকাল সোমবার ক্ষতিগ্রস্ত ৩০টি হিন্দু পরিবার প্রতি ৬ হাজার টাকা, ২ বান্ডিল টিন ও ৪০ কেজি চাল দিয়েছেন। মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া বলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবদুল মতিন, হোমনা উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. আজিজুর রহমান মোল্লা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামিয়া ফেরদৌসীসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। এসময় তিনি সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রয়োজনীয় সকল সহায়তা দেয়া হবে বলে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে আশ্বস্ত করেন।
