হেই দোস্ত! কী অবস্থা। এটা কোনো রেডিও থেকে উচ্চারিত শব্দ নয়। কোথাও থেকে দৌঁড়ে এসেই এমন শব্দে ছুঁড়ে দিতেন আড্ডার মাঝে। আর প্রতিনিয়ত তার এমন শব্দের জ্বালাতন থেকে বাঁচতে অনেকে আড়ালে গিয়েও মুক্তি খুঁজেছেন। কথাগুলো হচ্ছিলো রেডিও জকি (আরজে) আয়েশা আলম প্রান্তিকে নিয়ে। শুধু বন্ধুদের আড্ডায় নয়। বরং সবসময় প্রান্তি তার বন্ধুদের কথার মাধ্যমে অনেকটা বিরক্ত করতেন। কিন্তু বন্ধুরা যদি জানতেন সেই বেশি কথা বলা মেয়েটিই আজকের আরজে প্রান্তি হবেন; তাহলে হয়ত তারা আরো বেশি করে বিরক্ত হতে চাইতেন। তিনি সবসময় যে কোন বিষয় তার একটি বিশেষ আর্ট বা ঢংয়ে উপস্থাপন করতেন। পরে এক সময় সুযোগ আসে সিটি এফএম ৯৬.০ এ নিজেকে তুলে ধরার। এখন সেখানেই তিনি তার শ্রোতাদের বিনোদনের সাথে তথ্য দিয়ে সেবা করে আসছেন।
তিনি শুধু রেডিও’র মাধ্যমেই শ্রোতাদের সেবা দিয়ে আসছেন তা নয়। তিনি সত্যিকার অর্থে মানুষকে সেবা করার ব্রত নিয়ে পাশে থাকার ইচ্ছায় মেডিক্যালে ভর্তি হয়েছেন। অর্থাত্ ডাক্তার হয়েও আরজে। আর তাইতো এ দুটোকে সমন্বয় করেছেন ‘ডক্টর প্রান্তি স্পিকিং’ প্রোগ্রাম শুরুর মাধ্যমে। যার মাধ্যমে তিনি নিত্যদিনের যাবতীয় করণীয় এবং বর্জনীয় বিষয়গুলোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
প্রান্তির গ্রামের বাড়ি ভোলায়। বাবা, মা ও ছোট ভাইকে নিয়ে প্রান্তির পরিবার। ছোটবেলা থেকেই প্রান্তি বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। একই সাথে গান, নাচ, বিতর্ক, বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় ঈর্ষণীয় ফলাফল প্রান্তির জীবনে অনেকটা সফলতার দ্বারপ্রান্তেই পৌঁছেছেন। তবে চূড়ান্ত সফলতা হবে দরিদ্র মানুষের অপ্রকাশিত কথাগুলো গণমানুষের কাছে তুলে ধরা।
প্রান্তি অবসরে গান, বইপড়া আর বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে বিশেষ করে নাঈম, কনক, প্রিতম আর মনিকে জ্বালাতে ভালোবাসেন। তবে এতো সব কাজের মাঝেও তিনি তার মায়ের অপূর্ণ স্বপ্নগুলো বাস্তবায়নের স্বপ্নে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন।
