পটুয়াখালী প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

৩৩ জনের দেশ দেখা

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০১৪, ১৯:৪০
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাত্স্য বিজ্ঞান অনুষদের শেষ বর্ষের ছাত্র-ছাত্রীরা কান্ট্রি ট্যুর এর উদ্দেশ্যে মূল ক্যাম্পাসের একাডেমীকের সামনে দিয়ে স্বপ্নের যাত্রা শুরু করল। প্রথমে হৈ-হুল্লোড় করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে নিজ নিজ আসনে বসল সবাই। এক আনন্দঘন মুহূর্তে বাস বরিশালের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। আমরা ছিলাম সংখ্যায় ৩১ জন আর আমাদের সাথে ছিলেন আমাদের দুই শ্রদ্ধেয় শিক্ষক জেনেটিক্স অনুষদের সিদ্দিক স্যার ও একুয়াকালচার অনুষদের শিবনাথ স্যার। বিকেল ৬টায় আমরা বরিশাল লঞ্চঘাটে পৌঁছাই। সেখান থেকে আমাদের লঞ্চ রাত ৮টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা করে। সেখান থেকে আমরা বাংলার একেবারে শেষ সীমানা জাফলং-এর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করি। ২ ঘণ্টা পর আমরা বাংলাদেশের এক অপূর্ব ট্যুরিস্ট স্পট জাফলং-এ পৌঁছাই। মাঝখানে নদী তার এক পাশে ভারত আর এই পাশে বাংলাদেশ। এখানের নদীর পানি অনেক স্বচ্ছ। আমরা বন্ধুরা আর লোভ সামলাতে না পেরে তড়িঘড়ি করে পানিতে গোসল করতে নেমে পড়ি। সেখান থেকে বিকেলে আমরা আমাদের হোটেলে ফিরে আসি। কাপ্তাই লেকের মাঝে শুভলং এক অপূর্ব সৃষ্টি। চারদিকে উঁচু উঁচু পাথরের পাহাড়, পাহাড় চুঁইয়ে চুঁইয়ে পড়ছে পানির ঝরনা। আমরা সবাই ছবি তোলায় ব্যস্ত হয়ে পরলাম। সেখান থেকে আমরা গেলাম ঝুলন্ত ব্রিজে। কতক্ষণ সেখানে ছোটাছুটি করে রাতে আমরা আমাদের বাংলোতে ফিরে আসলাম। ভোর ৬টার দিকে আমরা সেখানে পৌঁছাই। এতো উপর থেকে মনে হচ্ছে পুরো বাংলাদেশকে দেখা যাচ্ছে, মেঘ আমাদের নিচে ভেসে বেড়াচ্ছে, মন চাইলেই বুঝি আকাশ ছোঁয়া যায়। এত সুন্দর পরিবেশে কি ছবি না তুলে পারা যায়? নীলগিরিতে ঘণ্টা দুয়েক থেকে আমরা চিম্বুক পাহাড় দেখতে গেলাম। সেখান থেকে ফিরে আসার পথে নীলাচল যার আরেক নাম টাইগার পারা ঘুরে আসলাম। ওদিন রাতে আমরা সবাই ক্যান্ডেল লাইট ডিনারের আয়োজন করলাম। ২ দিন বান্দরবনে সুন্দর কিছু মুহূর্ত কাটানোর পর পরের দিন আমরা কক্সবাজারের পথে যাত্রা শুরু করলাম। মাঝপথে আমরা মেঘলা পর্যটন কেন্দ্রে কিছুটা সময়ের জন্য নামলাম। কক্সবাজারে আমরা দুলাহাজরা সাফারি পার্কে ঢুকলাম। স্যাররাও আমাদের সাথে যোগ দেন। বিকেলে আমরা কক্সবাজারের ঐতিহ্যবাহী বার্মিস মার্কেটে কেনাকাটা করি। কক্সবাজারের মায়া কাটিয়ে পরেরদিন আমরা বাংলাদেশের একমাত্র কোরাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের পথে যাত্রা শুরু করি। টেকনাফ পৌঁছাই ১১টার দিকে। সেখান থেকে জাহাজে উঠি। জাহাজটি নাফ নদী যার একপাশে মায়ানমার আর এ পাশে বাংলাদেশ এর মাঝ দিয়ে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে ভেসে যায়। আমরা নদীর দু’পাশের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে দেখতে ও গান গাইতে গাইতে যাচ্ছিলাম। দুপুর ২টার দিকে আমরা সেন্টমার্টিনে পৌঁছাই। এতো সুন্দর একটা দ্বীপ দেখে আমরা সত্যি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না যে এটা বাংলাদেশের কোন জায়গা। চারদিকে শুধু নারিকেল গাছ। এজন্য একে নারিকেল জিঞ্জিরাও বলা হয়। এখানের পানি এতো স্বচ্ছ এবং নিল যে পানির নিচের সব কিছুই স্পষ্ট দেখা যায়। বিকেলে আমরা বাংলাদেশের শেষ সীমানা ছেঁড়া দ্বীপে যাই।