এক ধাপ এগিয়ে

সৃজনশীলতা মৃদুলের রক্তে

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০১৪, ১৯:৪০
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে এসে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃতির প্রেমে পড়ে যাই। অর্থনীতি বিভাগে ভর্তির পর একদিন ঘুরতে ঘুরতে টিএসসির বারান্দায় এসে জলসিঁড়ির রুমে উঁকি দিই। সেই থেকে শুরু ভিন্ন এক জীবন। অন্যরকম এক ভালো লাগা থেকে সংস্কৃতির পথে চলা! একসময় নাওয়া-খাওয়া হয়ে ওঠে টিএসসি। সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে যাওয়ার গল্প এভাবেই বলছিলেন রবিউল করিম মৃদুল। ক্যাম্পাস সহপাঠীরা যাকে জলসিঁড়ি মৃদুল বলেই বেশি চেনেন। ক্যাম্পাসের সিংহভাগ সময় কাটিয়েছেন সংস্কৃতি চর্চায়। মঞ্চনাটক, নাটকের সেট ডিজাইন, মুখোশ তৈরি, টেরাকোটা, সব ধরনের সাজসজ্জা, আলপনা এসব চোখের নিমিষে নিপুণ শৈল্পিকতায় সৃষ্টি করেন মৃদুল। অভিনয় করেছেন ১৪টি মঞ্চ নাটকের ৩৪টি শোতে। নাট্যাভিনয়ের অভিজ্ঞতার ঝুলি সমৃদ্ধ করে হাত দেন নাট্য রচনায়। প্রথম রচিত মঞ্চনাটক ‘জননী জন্মভূমিশ্চ’ নাটকের নিদের্শনা দেন নিজেই। মুক্তিযুদ্ধে নির্যাতিত এক নারীর জীবনী উঠে আসে এতে। জানালেন প্রথম নাটক মঞ্চায়নের দিনটি ছিল জীবনের শ্রেষ্ঠ স্মরণীয় দিন। কারণ কল্পনাতীত দর্শক সাড়া। সঙ্গে অসংখ্য শিক্ষকের আশীর্বাদ। একই ঘটনা ঘটেছিল নাটকের শো যখন বুয়েটের অডিটোরিয়ামে মঞ্চায়িত হয়। শেষ পাঁচ মিনিট দর্শকদের হু-হু কান্নায় পুরো মিলনায়তন কম্পিত হয়ে ওঠে। মঞ্চায়ন শেষে কয়েকজন ছাত্র নাটক রচয়িতা ও কেন্দ্রীয় চরিত্র আলতার (মুন্নীর) পা ছুঁয়ে সালাম করে। নাটক লেখায় মৃদুল যখন সিদ্ধহস্ত ঠিক তখন বিশ্ববিদ্যালয় ও জলসিঁড়ি জীবনের বিদায় ঘন্টা বেজে ওঠে। বসে রইলেন না তিনি। ছোটদের আহ্বান রাখতে লিখে ফেললেন কমেডি ধাঁচের নাটক ‘সাধুলীলা’। এরও শো হলো জাহাঙ্গীরনগর ও বুয়েটে। পেলেন প্রশংসা। কিছুদিন আগেই ইলামিত্র ও তত্কালীন সাঁওতাল আন্দোলন নিয়ে একটি মঞ্চনাটকের স্ক্রীপ্ট লিখেছেন। লেখালেখির হাতেখড়ি বাল্যকাল থেকেই। পারিবারিক উত্সাহ পেতেন বই পড়ায়। বিশ টাকার উপন্যাসের পোকা মৃদুল নাক ডুবিয়ে ছোটদের কবিতা ও মাসুদ রানা পড়তেন। ষষ্ঠ শ্রেণীতে শুরু করেন ছোটগল্প ও কবিতা লেখা। পুরনো বইয়ের ফাঁকে এখনও পড়ে আছে আড়াইশ’ কবিতার তিনটা হার্টসের ডায়রি। গল্প লেখার ভূত মাথায় চাপে বছর দুই হবে। ‘হলুদ খাম ও বাদামী ঘাসফড়িং’ তার প্রথম গল্পগ্রন্থ। গল্পকে মৃদুল দেখেন নিজের আরেক সত্তারূপে। গল্প লিখতে বসতে হয় না। গল্প এসে ধরা দেয়। আমি লিখি। বলেন মৃদুল। এ বইয়ের প্রতিটি গল্পে পাঠকদের কাছে রয়েছে ভিন্ন আমেজ।