অভিজ্ঞ ও দক্ষ শিক্ষকের অভাবে ভুগছে ঢাকার বাইরের নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সূত্রে জানা গেছে, গত শিক্ষাবর্ষে ঢাকার বাইরে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো অধ্যাপক ছিলেন না। এখনো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপকের সংখ্যা খুবই কম। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভিজ্ঞ শিক্ষক ছাড়া উচ্চশিক্ষার মান ধরে রাখা সম্ভব নয়। তবে পদ থাকলেও নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অভীজ্ঞ শিক্ষক পাওয়া যায় না। কেননা প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষকেরা নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে চান না।
শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহম্মেদ জানান, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়া উচিত যেমন তরুণ, মেধাবী তেমনি একাডেমিক এবং প্রশাসনিকভাবে দক্ষ ও অভিজ্ঞ সিনিয়র ব্যক্তির। দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্য শতভাগ সাধিত হওয়া কষ্টসাধ্য। তরুণ শিক্ষকরা তাঁদের উদ্যম নিয়ে কাজ করবেন। সিনিয়র অধ্যাপকরা তাঁদের নির্দেশনা দেবেন। পাশাপাশি সিনিয়রদের কাছে শিখবেন বিভিন্ন একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজ।
তিনি আরো জানান, বিশ্ববিদ্যালয় নিজেই যেহেতু একটি সরকারের মতো সেহেতু এখানে ভেতরে বসে একে অপরের কাছ থেকে শিখতে হয়। রাষ্ট্রের অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোয় বাইরে থেকে সরাসরি তত্ত্বাবধান ও শেখার সুযোগ রয়েছে, যেটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই। এখানে নেই ব্যবস্থাপনা বিষয়ে জানার জন্য কোনো প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা। যেখানে বাইরে থেকে প্রশাসনিক বিষয়ে শেখার সুযোগ সীমিত কিংবা একেবারে নেই বললেই চলে, সেখানে সিনিয়র অধ্যাপকদের কাছ থেকে শেখা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।
ইউজিসির (২০১২) হিসাবে, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক একজনও ছিলেন না। মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক আছেন ১ জন এবং সহযোগী অধ্যাপক আছেন ৩ জন। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক আছেন ১ জন করে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক আছেন ১ জন এবং সহযোগী অধ্যাপক আছেন ৬ জন। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক আছেন ৫ জন এবং সহযোগী অধ্যাপক আছেন ৮ জন। রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক আছেন ২ জন। আর সহযোগী অধ্যাপক আছেন ১১ জন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক আছেন ৩ জন। আর সহযোগী অধ্যাপক আছেন ১ জন। বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক আছেন ৪ জন এবং সহযোগী অধ্যাপক আছেন ৩ জন। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক এবং সহযোগী অধ্যাপক আছেন ১ জন করে।
একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অধ্যাপক বা সহযোগী অধ্যাপক পদের অভিজ্ঞ শিক্ষক অবশ্যই দরকার বলে মনে করেন শিক্ষাবিদ সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। তিনি জানান, গবেষণা ও শিক্ষকতা দুই ক্ষেত্রেই তাঁদের অভিজ্ঞতা থাকে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রবীণ শিক্ষকদের একটু অন্যরকম গ্রহণযোগ্যতা থাকে। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবীণ ও তরুণ শিক্ষকের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থা জরুরি। সবাই তরুণ হলে নির্দেশনার অভাব থাকে। আবার সবাই প্রবীণ হলে একধরনের স্থবিরতা চলে আসে।
