ব্যক্তিগত নিশ্চয়তা ছাড়াই পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের ঋণ পাবেন ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা। একইসঙ্গে ঋণ বরাদ্দের ক্ষেত্রে মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকার হাউজগুলোকে করপোরেট গ্যারান্টি বা প্রাতিষ্ঠানিক নিশ্চয়তা দিতে হবে না। গতকাল মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রণালয় এক চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশ সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) এ বিষয়ে অবহিত করেছে। অর্থ মন্ত্রাণালয়ের এ ধরনের সিদ্ধান্তে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা এ ঋণের সুবিধা গ্রহণে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন।
বিএসই সূত্র জানায়, অর্থ মন্ত্রণালয় সম্মতি দেয়ায় এখন পুনঃঅর্থায়নের ঋণ পেতে বিনিয়োগকারীদের ব্যক্তিগত এবং মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকার হাউজের প্রাতিষ্ঠানিক নিশ্চয়তা লাগবে না। এ বিষয়ে আজ বুধবার ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ কার্যালয়ে (আইসিবি) একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে গত ২ মার্চ ঋণের অর্থ পাওয়ার ক্ষেত্রে মার্চেন্ট ব্যাংক এবং স্টক ব্রোকারদের জন্য আরোপিত শর্ত শিথিল করার নীতিগতভাবে সম্মত হয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওইদিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বিএসইসি’র সমন্বয় সভায় নেয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অর্থ মন্ত্রণালয়কে চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি অবহিত করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার ব্যক্তিগত নিশ্চয়তা ছাড়াই পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের অর্থ বরাদ্দের অনুমতি দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিতে মার্চেন্ট ও ব্রোকারেজ হাউসগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিক নিশ্চয়তা দিতে বলে আইসিবি। একইসঙ্গে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতার জন্য বিএসইসি কর্তৃক জরিমানার আওতায় পড়া এমনকি নিবন্ধন বাতিলের দায় নেয়ার শর্ত দেয়া হয়। এমন শর্তে অর্থ বরাদ্দ দিতে বিনিয়োগকারীদের ব্যক্তিগত নিশ্চয়তা চায় এসব প্রতিষ্ঠান। এমন কঠিন শর্তের কারণে পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের প্রতি আগ্রহ হারান বিনিয়োগকারীরা। এদিকে দেশের পুঁজিবাজারে ভয়াবহ ধসের পর বিনিয়োগকারীদের তোপের মুখে ২০১১ সালের ২৩ নভেম্বর প্রণোদনা ঘোষণা করে বিএসইসি। এতে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র (১০ লাখ টাকার নিচে বিনিয়োগ করে ক্ষতিগস্ত) বিনিয়োগকারীদের জন্য পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা দেয়ার কথা বলা হয়। পুনঃঅর্থায়নের অংশ হিসেবে ক্ষতিগ্রস্তদের মার্জিন ঋণের ৫০ শতাংশ সুদ মওকুফ করা হয়। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্তদের স্বল্প সুদে পুনরায় ঋণ দিতে ৯০০ কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করা হয়।
এদিকে গতকাল মঙ্গলবার শেয়ারবাজারে সূচক ও লেনদেন কমেছে। তথ্যে দেখা গেছে, গতকাল ডিএসইএক্স ৫৭ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৫৪৭ পয়েন্টে নেমে এসেছে। ডিএস-৩০ সূচক ১৯ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৬৬৮ পয়েন্টে নেমে এসেছে। আর ডিএসই’র শরীয়াহ সূচক কমেছে ৪ পয়েন্ট। গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৩৮৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। যা আগের দিনের তুলনায় ৪৯ কোটি টাকা কম। লেনদেনকৃত টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ৬৮টির, কমেছে ২০২টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৩টি শেয়ারের।
