চট্টগ্রাম বন্দরের ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় সঞ্চয়ের পরিমাণ পূর্বের তুলনায় অনেক কমে গেছে। গত এক বছরে চট্টগ্রাম বন্দরের ব্যয়ের বিরাট অংশ বন্দরের সাথে সংশ্লিষ্ট নয় এমন অনেক খাতে ব্যয় করা হয়েছে। সে তুলনায় বন্দরের দৃশ্যমান উন্নয়ন খাতে ব্যয়ের পরিমাণ অপেক্ষাকৃত কম ছিল। চট্টগ্রাম বন্দরের ১২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেয়া তথ্যানুযায়ী অন্যান্য বছরের তুলনায় বন্দরের সঞ্চয়ের পরিমাণ কমে গেছে। তবে বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল নিজাম উদ্দিন আহমদ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সাংবাদিক সম্মেলনে বন্দরের দৃশ্যমান ও প্রভূত উন্নয়নের বিষয়গুলো আগামী কিছু দিনের মধ্যে দেখা যাবে বলে উল্লেখ করেছেন।
চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারকারীদের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে আমদানি-রপ্তানিকারকদের দাবি থাকা সত্ত্বেও এখনও নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) চালু করা যায়নি। এনসিটি পরিচালনার জন্য অপারেটর নিয়োগ এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় ইকুইপমেন্ট এখনও সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। কর্ণফুলী কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণের কাজ বহু বছর পূর্বে শুরু করার কথা থাকলেও তা শুরু হয়নি। বন্দরে ক্রমবর্ধমান হ্যান্ডলিং বৃদ্ধি পেলেও এর জন্য পর্যাপ্ত অবকাঠামো বৃদ্ধির কাজ ডিমেতালে চলছে। বন্দরের কম্পিউটারাইজড কন্টেইনার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিটিএমএস) প্রকল্প এক বছর পূর্বে উদ্বোধন করা হলেও তা এখনও পূর্ণোদ্যমে কাজ করতে পারছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। কন্টেইনারের ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য নর্থ কন্টেইনার ইয়ার্ড এখনও হয়নি। বন্দরের বহু কাঙ্খিত ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্প গত বছর শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা স্থবির হয়ে পড়ে আছে। অবশ্য চট্টগ্রাম বন্দরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার ধারণ ক্ষমতা ৪০ হাজার টিইইউএস-এ উন্নীত হবে। গত এক বছরে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়নের সাথে সংশ্লিষ্ট নয় এমন সকল খাতে বিশাল অংকের ব্যয় করেছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে ৩টি কন্টেইনারবাহী জাহাজ ক্রয় করেছে। চট্টগ্রাম-পানগাঁও পথে চলাচলের জন্য এ সকল জাহাজ কেনা হলেও জাহাজগুলো দিয়ে এখনও কোন আশানুরূপ ফল পাওয়া যাচ্ছে না। বন্দর সংশ্লিষ্টদের মতে বন্দরের জাহাজ কেনা কাজ নয়। বন্দরের বিশাল অংকের টাকা গভীর সমুদ্র নির্মাণ প্রকল্প খাতে ব্যয় করা হচ্ছে। পটুয়াখালীর পায়রা বন্দর প্রকল্পের জন্য ইতিমধ্যে প্রায় ৪৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানা যায়। এছাড়া কলেজ প্রতিষ্ঠা, হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা, স্ক্যানার, স্কেভেটরসহ বিভিন্ন খাতে বিরাট অংকের ব্যয় করা হয়েছে। বাস্তবে এ সকল খাত থেকে চট্টগ্রাম বন্দর আর্থিক লাভবান হবে না। চট্টগ্রাম বন্দরের কিছু ইকুইপমেন্ট কেনার ক্ষেত্রে এবং সরকারের ইকুইপমেন্ট সাপ্লাইয়ের ক্ষেত্রে প্রি-শিপমেন্ট ইন্সপেকশন নীতিমালাও অনেক ক্ষেত্রে লঙ্ঘন করার অভিযোগ রয়েছে। ভেসেল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট (ভিটিএমএস) এর টাওয়ার বন্দর ভবনের ওপর বসানোর কথা থাকলেও পরবর্তীতে ভবনের নীচে বসানোর জন্য অতিরিক্ত ১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা ব্যয় করতে হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিগত তিন বছরে বন্দরের আয় যেমন বেড়েছে একইভাবে ব্যয়ও বেড়েছে। কিন্তু ২০১৩ সালে ব্যয় তুলনামূলক অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
