ক্ষুব্ধ নারায়ণগঞ্জ

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:১২
খুন, গুম ও অপহরণে বিরক্ত নারায়ণগঞ্জের মানুষ। দিন দিন অবস্থার এত অবনতি হয়েছে যে মানুষের এই বিরক্তি ক্ষোভে পরিণত হয়েছে। অপহূত ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্রবীণ আইনজীবীসহ ৭ জনের গত তিন দিনেও সন্ধান মেলেনি। এর প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জে গতকাল মঙ্গলবারও সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে। আইনজীবীরাও পৃথকভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। নিখোঁজ কাউকেই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এই ধরনের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতি থেকে মুক্তি চান শীতলক্ষ্যা পাড়ের শান্তিপ্রিয় মানুষ। তাদের একটাই চাওয়া- শান্তিতে দিন পার করা। আইনজীবীরা বলেছেন, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার নারায়ণগঞ্জে থাকার যোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছেন। এখন তাদের বিরুদ্ধেই আন্দোলনে যাবেন আইনজীবীরা। গতকাল সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২ পর্যন্ত আড়াই ঘণ্টা ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের সমর্থকরা সড়ক অবরোধ করে রাখেন। এ সময় তারা অন্তত ১০টি স্পটে রাস্তায় টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। আন্দোলনকারীরা অভিযুক্ত কাউন্সিল নূর হোসেন ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন মিয়াসহ এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেফতারের দাবি জানান। তবে গতকাল যানবাহন ভাঙচুর হয়নি। এ সময় ওই সড়কের দুইপাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ যানজট। চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় ওই রুটে চলাচলকারী যাত্রীদের। দুপুর ১২টায় নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (ক অঞ্চল) বশির আহমেদ ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল মতিন অবরোধকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেন। অপহূত নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম ইসলাম ও বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, নজরুল ইসলামকে উদ্ধারে পুলিশের তত্পরতা নেই। নজরুল অপহূত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আসামিদের নাম বলা হয়েছে। কিন্তু পুলিশ তাদের গ্রেফতারে এখন পর্যন্ত উদ্যোগই নেয়নি। তাদের বক্তব্য, কাউন্সিলর নূর হোসেনসহ সকল আসামিদের গ্রেফতার করলে নজরুলের সন্ধান পাওয়া যাবে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি আবদুল মতিন জানান, নজরুল ইসলামসহ অপহূত সবাইকে উদ্ধারে পুলিশের ১০টি টিম দিন-রাত কাজ করছে। অপহূতরা উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে বলে। অপরদিকে নিখোঁজ চন্দন সরকারকে উদ্ধারের জন্য বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত আল্টিমেটাম দিয়েছেন আইনজীবীরা। তারা বলেছেন, বুধবার সন্ধ্যার আগে অপহূত আইনজীবী চন্দন সরকারকে যদি না পাওয়া যায় তাহলে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলনে নামবেন আইনজীবীরা। গতকাল সকালে দ্বিতীয় দিনের মতো আদালত বর্জন করে প্রতিবাদ সভা করেন তারা। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করেন আইনজীবীরা। আইনজীবীদের একটি প্রতিনিধি দল জেলা প্রশাসকের সাথে দেখাও করেন। জেলা প্রশাসক মনোজ কান্তি বড়ালের সাথে দেখা করে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ডিসি ও পুলিশ সুপার নারায়ণগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাদের ব্যর্থতার কারণে নারায়ণগঞ্জ এখন আতঙ্কের নগরীতে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই এখানে হত্যা খুন, গুম, অপহরণ, শিশু হত্যার মতো ঘটনা ঘটছে। বুধবার সন্ধ্যার আগে যদি চন্দন সরকারকে না পাওয়া যায় তবে ডিসি ও এসপিকে প্রত্যাহারের দাবিতে নারায়ণগঞ্জ আদালতের আইনজীবীরা লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, আমরা চন্দন সরকারকে উদ্ধারে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিলাম। কিন্তু সেই সময়ের মধ্যে প্রশাসন চন্দন সরকারকে উদ্ধারে ব্যর্থ হয়েছে। তাই আমরা আবারোও আন্দোলনে নেমেছি। জেলা প্রশাসককে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয়া হয়েছে। যদি এর মধ্যে চন্দন সরকারকে উদ্ধার না করা হয় তবে তাদের প্রত্যাহারের দাবিতে আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো।