বর্তমান সরকারের গত পাঁচ বছরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ও এর আশপাশ এলাকায় ছাত্র শিবির প্রতিপক্ষের অন্তত ১৫ নেতা-কর্মীর হাত ও পায়ের রগ কেটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সর্বশেষ গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশ্য দিবালোকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ছাত্রবৃত্তি বিষয়ক সম্পাদক টগর মো. সালেহ-এর দুই পায়ের পাতা বিচ্ছিন্ন ও অপর কর্মী মাসুদের দুই হাত-পায়ের রগ কেটে দেয় শিবির।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগসহ অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীরা জানান, ১৯৮৮ সালে ৩১ মে দিনের বেলায় প্রকাশ্যে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ শাখা ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি জামিল আকতার রতনকে চার হাত-পায়ের রগ কেটে হত্যা করার মধ্য দিয়ে শিবির রগ কাটার রাজনীতির সূচনা করে। ১৯৯৯ সালের ১৬ নভেম্বর রাতে ছাত্রলীগকে ক্যাম্পাস ছাড়া করার পরবর্তী এক দশক শিবিরের রগ কাটার রাজনীতি প্রায় বন্ধ ছিল। মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০১০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ছাত্রলীগ কর্মী ফারুক হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে শিবির আবারও রগ কাটার রাজনীতিতে ফিরে আসে। ওইদিন শিবির ছাত্রলীগ কর্মী ফিরোজ মাহমুদ, আরিফুজ্জামান, শহিদুল ইসলাম এবং সাইফুর রহমান বাদশাসহ ৬ জনের হাত ও পায়ের রগ কেটে দেয়। এরপর প্রায় আড়াই বছরের অধিক সময় শিবিরের রগ কাটার রাজনীতি বন্ধ ছিল।
পরে ২০১২ সালের ২০ নভেম্বর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের খালেদা জিয়া ছাত্রী আবাসিক হলের সামনে ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার তত্কালীন সহ-সভাপতি আখেরুজ্জামান তাকিমকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার হাত ও পায়ের রগ কেটে দেয়। বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিত্সা নেয়ার পরেও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি তাকিম।
২০১৩ সালের ১৮ মার্চ রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে বিনোদপুর এলাকায় ৩০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলামের বাড়িতে হামলা চালিয়ে তার দুই পায়ের রগ কেটে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এ সময় শহিদুল ইসলামের বাড়িতে থাকা স্কুল শিক্ষক মাইনুল ইসলামের বাঁ হাতের রগ কেটে দেয়া হয়। দুর্বৃত্তরা শিবিরের নেতা-কর্মী ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
একই বছরের ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের পায়ের রগ কেটে দেয়া হয়। গত ১৩ জুন রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে দাসমাড়ী এলাকার বাসিন্দা ও ২৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম আনার হাত ও পায়ের রগ কেটে দেয়া হয়। হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের সময় তার মৃত্যু হয়।
একই বছরের ২২ আগস্ট রাতে রাবির সোহরাওয়ার্দী হলের সামনে তিন রাস্তার মোড়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম তৌহিদ আল হোসেন তুহিনের হাত-পায়ের রগ কেটে দেয় দুর্বৃত্তরা। বর্তমানে তিনি পঙ্গু হিসাবে জীবন-যাপন করছেন। একই বছরের ১৩ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে বিনোদপুর এলাকার মিজানের মোড়ে রাবি শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল ইসলাম সাদ্দামের হাত ও পায়ের রগ কেটে দেয়া হয়।
এসব ঘটনার সঙ্গে শিবির ক্যাডাররাই জড়িত বলে দাবি করেছেন রাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান রানা। তিনি বলেন, শিবির পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের হামলা ঘটাচ্ছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানান।
