জনপ্রিয় যত বিজ্ঞাপনের নির্মাতা

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০১৪, ১৮:৪৮
ফিকশন দিয়ে শুরু হলেও বর্তমানে টিভি বিজ্ঞাপন নির্মাণে ব্যস্ত মেধাবী তরুণ শরাফ আহমেদ জীবন। তার কর্মব্যস্ততা ও ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা নিয়ে লিখেছেন সৈয়দ শিশির প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে ছুটে আসেন রাজধানী ঢাকা শহরে। ২০০০ সাল থেকে টানা প্রায় ৬ বছর বিভিন্ন গুণীজনের সঙ্গে কাজ করার পর ২০০৬ সালের শেষ দিকে প্রতিষ্ঠা করেন নিজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘কারখানা প্রোডাকশন্স’। ২০০৭-২০১০ পর্যন্ত টানা কাজ করেছেন নাটক নিয়ে। এ সময়ের মধ্যে সিঙ্গেল, সিরিয়াল ও টেলিফিল্ম মিলিয়ে প্রায় ৫০টি গল্প তুলে ধরেছেন দর্শক-শ্রোতা সমীপে। তার প্রযোজিত ও পরিচালিত প্রথম টেলিফিল্ম ‘ঘর নাই’ ২০০৭ সালে প্রচারিত হয়েছে চ্যানেল ‘ওয়ান’-এ। তারপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। তার নির্মিত টেলিফিল্ম ‘শেখ আব্দুর রহমানের আত্মজীবনী’তে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন প্রয়াত বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক আব্দুল মান্নান সৈয়দ। জীবনের লেখা উল্লেখযোগ্য সিঙ্গেলগুলো হলো—‘উচ্চমাধ্যমিক সমাধান’, ‘চৌধুরী সাহেবের ফ্রি অফার’, ‘প্রিয় পারভীন’, ‘শূন্য’ ও ‘ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর’। একই সময়ে তিনি নির্মাণ করেছেন কথাসাহিত্যিক আনিসুল হকের লেখা ‘হাওয়াই মিঠাই’, ‘সিরিয়াস একটা কথা আছে’, ‘সিরিয়াস কথার পরের কথা’ ও ‘রং পেন্সিল’। দেশের শীর্ষস্থানীয় চ্যানেলগুলোতে এক এক করে প্রচার হতে থাকে তার সৃষ্টি। প্রযোজক, নাট্যকার ও পরিচালক হিসেবে চারদিকে ছড়িয়ে পড়তে থাকে তার খ্যাতি। কিন্তু শরাফ আহমেদ জীবন তাতেও তৃপ্ত হতে পারলেন না। আরও ভিন্নভাবে ভিন্ন কিছু করার কথা ভাবতে থাকলেন তিনি। শুরু করলেন টিভি বিজ্ঞাপন নির্মাণ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি যেভাবে যে গল্পটা বলতে চাই—রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে তা বলার সুযোগ খুবই সীমিত বলে মনে হচ্ছিল অন্তত নাটকে। তাই বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে গল্পটা বলার চেষ্টা করলাম এবং সেই পথে পথচলা শুরু করলাম।’ ২০১১ সাল থেকে শুরু করলেন টেলিভিশনের বিজ্ঞাপন নির্মাণের কাজ। তবে বিজ্ঞাপন নির্মাতা হবেন এমনটি আগে কখনও ভাবেননি জীবন। তিনি মনে করেন এটিও তার মূল কাজ নয়। যে কারণে ভবিষ্যতে নিজেকে বিজ্ঞাপন নির্মাতা হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত করবেন—এমনটি ভাবেন না। এখন ভালো লাগছে, আনন্দ পাচ্ছেন তাই বিজ্ঞাপন নিয়ে কাজ করছেন। এ পর্যন্ত প্রায় ৬০টি বিজ্ঞাপন নির্মাণ করেছেন তিনি। এসবের অধিকাংশই ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। এসব বিজ্ঞাপনের মধ্যে রয়েছে—UCBL-এর Ucash-এর ‘মানি ভাই’ (মোশারফ করিম অভিনীত); গ্রামীণ ফোনের ‘আমরা আমরাই-তো’, ‘গ্রামীণফোন স্টার্টআপ’; গ্রামীণ ফোনের আপনজন প্যাকেজের ‘ভাই’ ও ‘খালাম্মা’। ২০১২ সালে BDDL নতুন ধারার ‘লেট করলেই লস’ নির্মাণের পাশাপাশি ডিজিটাল বাংলাদেশের অধিকাংশ বিজ্ঞাপনই তিনি নির্মাণ করেছেন। অতি সম্প্রতি প্রাণ গ্রুপের ‘প্রাণ মিল্ক’ ও ‘প্রাণ ক্যান্ডি’-এ দুটি বিজ্ঞাপনের শুটিং সম্পন্ন করেছেন। এগুলোর পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ চলছে। ১৯৮১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দায় শরাফ আহমেদ জীবনের জন্ম। সেখানেই বেড়ে ওঠা। ছোটবেলায় যখন টিভিতে নাটক, বিজ্ঞাপন আর সিনেমা দেখতেন তখন থেকে ভাবতে থাকেন—একদিন আমিও এসব নিয়ে কাজ করব। এত কাজ করেও অতৃপ্ত মানুষটির তাহলে মূল লক্ষ্য কী? এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘সিনেমা বানানো আমার মূল লক্ষ্য। ভালো গল্প পাওয়া মাত্রই সিনেমা নিয়ে পুরোদমে কাজ শুরু করব।’ দর্শক হিসেবে নিজে পছন্দ করবেন তেমন সিনেমাই তিনি নির্মাণ করতে চান। তিনি মনে করেন, ভালো সিনেমা তৈরি করতে পারলে সাফল্য আসবেই। দর্শক হলমুখী হবেই। তবে ভালো সিনেমা তৈরির ক্ষেত্রে এদেশে প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যথেষ্ট সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আবার চিন্তার জায়গায়ও আমরা বেশ পিছিয়ে আছি। সিনেমায় একসঙ্গে অনেক কিছু ব্যবহার করা যায় বলে সিনেমাকে তিনি শিল্প-সংস্কৃতির মূল কেন্দ্রবিন্দু বলে মনে করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘টিভি নাটক ড্রয়িং রুমে ছুটে আসে আর সিনেমা ড্রয়িং রুম থেকে টেনে দর্শককে হল বা প্রেক্ষাগৃহে নিয়ে যায়।’ যে কারণে শক্তিশালী এ মাধ্যমটির প্রতি তার এত দুর্বলতা। প্রতিদিন কাজের ভেতর দিয়ে শিখছেন, বাড়ছে তার অভিজ্ঞতা। তাই এ পথের নতুন পথিকদের উদ্দেশ্যে তার পরামর্শ হলো—‘শেখার ভেতর দিয়েই এগিয়ে যেতে হবে।’