নাটকের মানুষের দৃষ্টিকে ততদূর নিতে চাই, পৃথিবী যেখানে আজ চলে গেছে

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০১৪, ১৮:৫২
বাংলাদেশের নাট্য আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব লিয়াকত আলী লাকী। সামনের কাতারে থেকে নাট্য আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন গতিময় নেতৃত্বের গুণে। দায়িত্বে রয়েছেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালকের পদে। যশোরে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের ২১তম জাতীয় সম্মেলনে দ্বিতীয়বারের মতো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন সভাপতি হিসেবে। সম্মেলনের ফাঁকে নাট্য আন্দোলনের নানা বিষয় নিয়ে তিনি কথা বলেছেন আমাদের যশোর অফিসের স্টাফ রিপোর্টার আহমেদ সাঈদ বুলবুলের সাথে নাট্যচর্চার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের ভূমিকার কথা বলুন। বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন বাংলাদেশের একমাত্র গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক জোট। ফেডারেশনভুক্ত সারাদেশের নাটকের দলের সমস্যার সমাধানে আমরা কাজ করছি। সংগঠনকে শক্তিশালী করতে বিভাগীয় ও নারী নাট্যকর্মীদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুধুমাত্র সরকারের মুখাপেক্ষী হয়ে না থেকে বেসরকারিভাবেও নাট্যচর্চাকে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা শহরে মেয়র নাট্যোত্সব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারি সহায়তায় নাট্যকার, নির্দেশক, অভিনেতা, ডিজাইনার—সবার জন্য কর্মশালাসহ নাট্য উন্নয়ন বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আকাশ সংস্কৃতির এই যুগে নাট্যচর্চার চ্যালেঞ্জ কীভাবে মোকাবেলা সম্ভব? সময়ের সাথে সাথে প্রেক্ষাপটের পরিবর্তন হচ্ছে। একজন নাট্যশিল্পী মঞ্চ থেকেই উঠে আসছেন। কিন্তু মিডিয়াতে যুক্ত হলে মঞ্চে ফিরে আসার প্রবণতা কমে যাচ্ছে। অর্থাত্ মঞ্চ তাকে তৈরি করে দিলেও মঞ্চ তাকে ধরে রাখতে পারছে না। বিশ্বায়নের প্রভাবও পড়ছে তাদের ওপর। আমাদের সময় শিক্ষাজীবনে ঘরের খেয়ে থিয়েটার করার যে প্রবণতা ছিল, এখন সেটা নেই বললেই চলে। ৭০-এর দশক থেকে যেভাবে আমরা নাট্যকর্মী পেয়েছিলাম, ২০১৪- তে এসে তা অনেক কমে গেছে। তাহলে কী বাংলাদেশের নাট্যচর্চা সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে? বৈশ্বিক প্রেক্ষিতকে আমাদের বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা করতে হবে। থিয়েটারকে প্রফেশনালি আনতে হবে। পেশাভিত্তিক নাট্যচর্চা সহায়তার উদ্যোগ নিতে সরকারকে বলেছি। ১০ জন অভিনেতা ও নির্দেশক নিয়োগ দেওয়া হবে—যারা বছরব্যাপী নাটক মঞ্চায়ন করবে। ভারতে ৮ বছর আগেই এটা শুরু হয়েছে। পাঠ্যসূচিতেও নাটককে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে—যেন নাটকের শিক্ষক নিয়োগ লাভ করতে পারেন। অর্থাত্ নাটকের মানুষের দৃষ্টিকে ততদূর নিতে চাই—পৃথিবী যেখানে চলে গেছে। এজন্য দীর্ঘ লড়াইয়ের পথ আমাদের পাড়ি দিতে হবে। নাট্যকর্মীর চিরায়ত পরিচয়কে বদলে শৈল্পিক বুদ্ধিজীবী বলতে চাইছেন কেন? এতদিন নাট্যকর্মীর ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। নাট্য নির্মাতারা শিল্পী, অভিনেতা, নির্দেশক। তারা শিল্পকে প্রতিষ্ঠা করছেন। রাষ্ট্রের যেকোনো সংকটে তারাই ভূমিকা রাখেন। সারা দুনিয়ায় তাদের আর্টিস্ট বলে। ‘উই আর আরটিস্টিক ইন্টেরেশিয়া।’ আমরা আসলেই শৈল্পিক বুদ্ধিজীবী। প্রফেশনাল অ্যামেচার থিয়েটার নামের নতুন একটি কথাও আপনারা বলছেন... আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যারা আমাদের কাজ দেখেন তারা তো অবাক, মঞ্চে এত পেশাদারিত্বের কাজটি কীভাবে শৌখিনভাবে করা সম্ভব? আসলে আমাদের থিয়েটার মানের বিচারে প্রফেশনাল, আর কাঠামোতে অ্যামেচার। ‘কালচারালি ইম্পোট্যান্ট পার্সন’ ধারণাটিই বা কেন? দেখুন আমজাদ আলী খানের মতো মানুষ যথার্থভাবেই মন্ত্রীর মর্যাদা লাভ করেন। কিন্তু আমাদের দেশে একজন সচিব, অতিরিক্ত সচিব এমনকি যুগ্ম সচিবও যে মর্যাদা পান, শিল্পীসমাজ সে কদর পান না। এটা ঠিক না। আমাদের প্রস্তাবটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ডিও লেটার সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে পৌঁছেছে। আশা করি এটা হলে শিল্পীসমাজের মর্যাদা বাড়বে।