ব্যাংকের উদাসীনতায় উদ্যোক্তারা এসএমই ঋণ পাচ্ছে না

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০১৪, ২০:১৩
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) দেশের সম্ভাবনাময়ী খাতের অন্যতম। তবে পুঁজির অভাবে এ খাতের উদ্যোক্তারা তাদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারছেন না। মূলধন সংগ্রহের জন্য ব্যাংকের কাছে গেলেও অনেক ক্ষেত্রেই বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। এ বিষয়ে ব্যাংকগুলোর উদাসীনতার কারণেই এমনটি হচ্ছে। গতকাল এক সেমিনারে এমন অভিযোগ করেছেন বেশ কয়েকজন উদ্যোক্তা। রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশে এসএমই খাতের উন্নয়ন’ বিষয়ক আন্তর্জাতিক ওই সেমিনারের আয়োজন করে বাংলাদেশ ব্যাংক, সিরডাপ, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) ও মাইডাস ইউকে। সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ড. আতিউর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডেপুটি গভর্নর মো. আবুল কাশেম। এছাড়া সিরডাপের পরিচালক ড. সিসেপ ইফান্দি, যুক্তরাজ্যের কমনওয়েলথ ইনভার্নমেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্লাটফরম (সিইআইপি) চেয়ারম্যান মাইকেল আলফ্রেড সিপিড, ভারতের আইসিই স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শংকর রিলি। এছাড়া বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মো. মাছুম পাটওয়ারি। উদ্যোক্তাদের অভিযোগের বিষয়ে বিআইবিএমের কনসালটেন্ট সুকোমল সিংহ চৌধুরী বলেন, এসএমই ঋণ বিষয়ে ব্যাংকগুলোর উদাসীনতা রয়েছে কথাটা সত্য তবে এ খাতে ব্যাংকগুলো প্রচুর ঋণও দিচ্ছে। যেটুকু সমন্বয়হীনতা আছে তা দূর হয়ে যাবে। এ খাতের উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। সকলে আন্তরিকভাবে কাজ করলে এ খাতে কোন সমস্যাই থাকবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. আতিউর রহমান বলেন, অনেক দেশ তাদের উন্নয়নে এসএমই খাতকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এতে কর্মসংস্থান বাড়ছে। এ ধরনের আর্থিক অগ্রগতি আমাদের দেশের জন্য প্রয়োজন। পাশাপাশি এসএমই উদ্যোক্তারা যেন তাদের পণ্য সহজে বাজারজাত করতে পারে তার ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, ২০১০ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকে এসএমই বিভাগ প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২০১৩ সালের শেষে ব্যাংকিং খাতে ঋণ বিতরণ বেড়েছে ৫৯ শতাংশ। এর মধ্যে উত্পাদন ও সেবা খাতে ৫৫ শতাংশ ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। এ সময়ে ৬৫ হাজার ৫০৪ জন নতুন ব্যবসায়ী উদ্যোক্তাকে ঋণ দেয়া হয়েছে ১৩ হাজার ১৯৮ কোটি টাকা।