ইরাক থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের পর প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে দেশটিতে। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে বুধবার সকাল থেকে শুরু হওয়া নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলে বিকাল চারটা পর্যন্ত। নির্বাচনের দুই দিন আগে সোমবার পুলিশ ও সেনাবাহিনীর ভোট গ্রহণের দিনে বেশ কয়েকটি জায়গায় আত্মঘাতী বোমা হামলায় শতাধিক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। তাই নির্বাচন কেন্দ্রে গাড়ি বোমা হামলা প্রতিরোধ করতে সব ধরনের যানবাহন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ভোটাররা পায়ে হেঁটে ভোট কেন্দ্রে যান। কোন কোন জায়গায় একাধিক তল্লাশির পর ভোট কেন্দ্রে প্রবেশের সুযোগ পান ভোটাররা।
প্রায় দুই কোটি ২০ লক্ষ ভোটার ভোট দেয়ার দেয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন। সারাদেশে একযোগে ভোটগ্রহণের জন্য ৫০ হাজার কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। ৩২৮টি সংসদীয় আসনে জয়লাভের জন্য ৯ হাজারের বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে আনবার প্রদেশে ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। আনবারের প্রাদেশিক রাজধানী রামাদি এবং এর পার্শ্ববর্তী ফালুজা শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইসলামিক এবং উপজাতীয় জঙ্গিদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাবাহিনী যুদ্ধ করছে।
২০০৮ সালের পর দেশটিতে জঙ্গি তত্পরতা সর্বাধিক পর্যায়ে থাকলেও নির্বাচনে জয়লাভের মাধ্যমে তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নুরি আল মালিকি। তবে নির্বাচনে কোন একক দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে পারবে কীনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে নির্বাচনের পর ফলাফল পরবর্তী জোটের মাধ্যমে সরকার গঠিত হতে পারে। সাধারণ জনগণ মনে করছে নির্বাচনই একমাত্র পথ যার মাধ্যমে দেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা স্বাভাবিক হবে। গত মাসে আত্মঘাতী বোমা হামলার শিকার হয়ে মারা গেছে বাগদাদের ভোটার ইসাম শুক্কুরের ছেলে। ভোট দিতে এসে তার প্রতিক্রিয়ায় শুক্কুর বলেন, আমার এক সন্তান বোমা হামলায় মারা গেছে। কিন্তু আমি চাই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভালো হবে। আমার অন্য সন্তান এবং নাতি-নাতনিরা স্বাভাবিক জীবন-যাপন করতে পারবে। আমরা চাই ইরাকের মানুষ শান্তিতে বাস করতে পারবে।
এর আগে সোমবার আগাম ভোট গ্রহণের সময় নির্বাচনী সমাবেশ, পুলিশ ও সেনাদের ওপর বোমা হামলায় অর্ধশতেরও বেশি মানুষ নিহত হয়। দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খানাকিন শহরে কুর্দিদের সমাবেশে এক আত্মঘাতী হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হন।
দেশটির রাজধানী বাগদাদে ও উত্তর ইরাকে সুন্নি জঙ্গিরা সেনাবাহিনী ও পুলিশের উর্দি পরে কয়েকটি ভোট কেন্দ্রে হামলা চালায়। বাগদাদের পশ্চিমাংশের মনসুর এলাকায় এ ধরনের একটি হামলায় পুলিশের উর্দি পরা এক আত্মঘাতী ভোট দেয়ার নাম করে কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে শরীরে বাঁধা বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে ছয় পুলিশ নিহত হন। একই ধরনের আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে বাগদাদের আধহামিয়া, কিরকুক এবং হাবিজা শহরের ভোট কেন্দ্রে।
