লক্ষ্যে অবিচল ইংল্যান্ড

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০১৪, ২১:৩৫
সেই ৫২ বছর আগে একবারই বিশ্বজয় করেছিল দলটি। এরপর অনেকগুলো আসরেই ফেবারিটের তালিকায় থেকেও ওঠা হয়নি ফাইনালে। ইংল্যান্ডের জন্য এবারের আসরটা আরও কঠিন হতে যাচ্ছে। কারণ বিশ্বকাপ ফুটবলের আসরটি যে এবার লাতিন আমেরিকায়। যদিও ব্রাজিলে বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার মাস দেড়েক আগে অবিচল লক্ষ্যের কথাই জানালেন দলটির কোচ রয় হজসন। ফিফা ডটকমকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন, ‘আমি দলটি নিয়ে আগামী অনেকদিন কি করতে চাই সেই ব্যাপারে আমার পরিষ্কার একটা ধারণা আছে। আর গত কয়েক সপ্তাহে আমার ধারণাটা আরও স্বচ্ছ হয়ে উঠেছে। আমি জানি এই দলটির সাথে কি করতে হবে।’ ক্লাব ফুটবল বিবেচনা করলে শুরুর দিকেই থাকবে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ। কিন্তু লাতিন আমেরিকায় খেলা বলেই কি ইংলিশ ফুটবলের জমজমাট আসর থেকে উঠে আসা খেলোয়াড়রা এবার কিছুটা স্নায়ুচাপে ভুগবেন? আর গ্রুপ পর্যায়েও ইতালির মত শক্তি প্রতিপক্ষের সাথে বাকি দুটি দল লাতিন আমেরিকান। হজসন মোটেই ব্যাপারটা নিয়ে খুব বেশি ভাবতে চাইছেন না। এই ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘না আমি কখনই এই ব্যাপারটাকে স্নায়ুচাপ বলবো না। কারণ এই ব্যাপারটা পুরোটাই আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তাই এসব নিয়ে বেশি চিন্তা না করাই ভাল।’ বিশ্বকাপে ভাল করার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী এই কোচ আরও বলেন, ‘আমরা সঠিক পথেই আছি। আমাদের বেশ বড় একটা দায়িত্ব নিতে হবে। আর আমাদের দলের অবস্থাও বেশ ভাল। দলের বাইরে আমাদের জন্য অনেক সমর্থন হইছে। আমরা সবাই এখন বেশ চাঙ্গা। বিশ্বকাপ একটা মঞ্চ। যেখানে সবাই একবার হলেও পারফরম করতে চায়। তাই আমরা মনে রাখার মতো কিছু একটা করে যেতে চাই। যে কোন মুহূর্তে আমাদের ইতিবাচক থাকতে হবে।’ ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের এবারের মৌসুম এরই মধ্যে চলে এসেছে শেষ পর্যায়ে। আর প্রিমিয়ার লিগ শেষ হবার একদিনের মধ্যেই বিশ্বকাপের প্রাথমিক স্কোয়াড। ত্রিশজনের দল আগামী ২ জুন নেমে আসবে তেইশে। দল গঠনে শেষ মুহূর্তের জ্বলে ওঠা খুব বেশি কাজে দেবে না বলেই জানিয়েছেন হজসন। ‘আমি চলতি মৌসুম শেষ হবার এক কি দুই সপ্তাহ আগেই দলের ব্যাপারে আমার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে নেবো। আমার মতে এই সময়টাই সেরা খেলোয়াড় বাছাই করার জন্য সবচেয়ে আদর্শ মুহূর্ত। আর আমি কখনওই শেষ মুহূর্তের ফর্মটা খুব বেশি মাথায় রাখি না। আসল ব্যাপারটা হলো, মাত্র এক-দুটি ম্যাচ দিয়েই কেউ ভাল কিংবা খারাপ খেলোয়াড় হয়ে উঠতে পারে না।’ আগামী ৩০ মে পেরুর সাথে একটি প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ খেলবে ইংল্যান্ড। এরপর দল চূড়ান্ত হবার পর আরও দুটি প্রীতি ম্যাচ অপেক্ষা করছে ইংলিশদের জন্য। সেই দুটি ম্যাচের প্রথমটিতে আগামী চার জুন ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ হন্ডুরাস। এরপর সাত জুন মিয়ামিতে ইকুয়েডরের মোকাবেলা করবে রয় হজসনের দল। স্নায়ুচাপের ব্যাপারটা উড়িয়ে দিলেও প্রস্তুতি ম্যাচের দল তিনটির নাম দেখে স্পষ্ট প্রমাণ হয় যে, লাতিন আমেরিকায় খেলা নিয়ে বেশ ভাল ভাবেই ভাবছেন ইংল্যান্ড কোচ। কারণ, তিনটি ম্যাচই লাতিন আমেরিকান প্রতিপক্ষের বিপক্ষেই। ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ লড়াই শুরু হবে ১৪ জুন। বি গ্রুপে দলটির সামনে প্রথম অপেক্ষা করছে ইতালির বাধা। এরপর সাও পাওলোতে ১৯ জুন তারা মাঠে নামবে উরুগুয়ের বিপক্ষে। আর সর্বশেষ গ্রুপ পর্যায়ের ম্যাচে ২৪ জুন বেলো হরিজন্টেতে ইংলিশদের লড়াই কোস্টারিকার বিপক্ষে।