বিজেপি ঠেকাতে তৃতীয় ফ্রন্টকে সমর্থন দেবে কংগ্রেস

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:৩৬
ভারতের সবচেয়ে পুরোনো রাজনৈতিক দল কংগ্রেস বুঝতে পেরেছে, চলতি লোকসভা নির্বাচনে দলটি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না। তাই বিরোধী দল বিজেপিকে ঠেকাতে দলটি আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত তৃতীয় ফ্রন্টকে সরকার গঠনে সমর্থন দিতে পারে। ইতিমধ্যে তৃতীয় ফ্রন্টের সঙ্গে জোট করার ইঙ্গিত দিয়েছেন কংগ্রেসের বেশ কয়েকজন নেতা। কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর রাজনৈতিক সচিব আহমেদ প্যাটেল বলেন, তৃতীয় ফ্রন্টের সঙ্গে কাজ করার বিষয়টি কংগ্রেস আগেই বিবেচনা করছিলো। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী পৃথ্বিরাজ চৌহান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদ এবং পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী জয়রাম রমেশ এ সম্ভাবনার বিষয়ে আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলতে আগ্রহী নন কংগ্রেস নেতারা। নাম না প্রকাশের শর্তে একজন ভারতীয় মন্ত্রী বলেন, ১০ বছর ক্ষমতায় থাকার পর কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোটের এবার ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা নেই। তবে নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনে কংগ্রেস সহায়তা করতে পারে। সূত্র জানায়, কংগ্রেস কিছু সম্ভাবনার দ্বার খুলে রাখছে। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর তৃতীয় ফ্রন্টের সঙ্গে জোট করার ঘোষণা দিতে পারে দলটি। বর্তমানে ভারতের বামপন্থিরা শোরগোল না করে অনেকটা নীরবেই তৃতীয় ফ্রন্ট সরকার গঠনের জন্য কাজ করে চলেছে। তারা বিজেপির বাইরের প্রার্থীদের জয়ী করতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে বামদলগুলো স্বীকার করছে, কংগ্রেসের সমর্থন ছাড়া তৃতীয় ফ্রন্টের ক্ষমতায় আসা কঠিন হবে। দিল্লিতে সিপিআইর (এম) নেতাকর্মী ও সমর্থকদের আম আদমি পার্টির (এএপি) প্রার্থীদের ভোট দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এএপি এখনো তৃতীয় ফ্রন্টে যাওয়ার আগ্রহ দেখায়নি তারপরও বামরা মনে করছে- দলটি তাদের জোটের সম্ভাব্য শরিক। বিহারে সিপিআই এবং ক্ষমতাসীন জনতা দল (ইউ) একসঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। দক্ষিণ ভারতের তেলেঙ্গনায় এবারের নির্বাচনে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করেছে। ওডিশা, কর্নাটক এবং অন্ধ্র প্রদেশেও নিজেদের প্রার্থীদের কয়েকটি আসন বাদে বিজু জনতা দল, জনতা দল (সেক্যুলার) ও ওয়াইএসআর কংগ্রেস পার্টির প্রার্থীদের বিজয়ী করার জন্য কাজ করছে তারা। এবারের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি যদি এককভাবে ২০০ আসনে জয়লাভ করতে না পারে তখনই তৃতীয় ফ্রন্টের সরকার গঠনের বিষয়টি সামনে আসবে। এক্ষেত্রে কংগ্রেসের সমর্থন দরকার পড়বে। তবে ১৯৯৬ ও ১৯৯৭ সালের তৃতীয় ফ্রন্ট সরকারের মতো এবারের সরকার অস্থিতিশীল হবে না। ঐ সময়ে কংগ্রেস সমর্থন তুলে নেয়ার কারণে দুইটি সরকার এক বছরও স্থায়ী হতে পারেনি। যে কারণে দুই বছর পর ১৯৯৮ সালে লোকসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। তবে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট ২৩০টির মতো আসন পেলে সরকার গঠনে তারা আরো কিছু শরিক পেতে পারে। বিজেপি এক্ষেত্রে ব্যর্থ হলে তৃতীয় ফ্রন্টই সম্ভাব্য সরকার গঠন করবে। উত্তর প্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, মহারাষ্ট্র, তামিল নাড়ু ও ওডিশার আঞ্চলিক দলগুলোর আসন সংখ্যা এই সরকার গঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া কংগ্রেসের আসন সংখ্যাও সরকারের স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কংগ্রেস যদি ১০০-এর বেশি আসন পায় সেক্ষেত্রে তাদের জোট ও সরকার ধরে রাখা সহজ হবে।