ছয় পরিবারে শোকের মাতম

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:৪২
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ ছয় জনের লাশ উদ্ধারের পর নিহতদের পরিবারে শোক আর ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের বাসায় গিয়ে দেখা গেছে, জনতার ভিড়। তাদের মধ্যে ক্ষোভ আর শোক। নিহতের পরিবারের লোকজনের কান্নায় ভারি হয়ে উঠেছে বাড়ির পরিবেশ। নিহত নজরুল ইলামের বড় ছেলে নাঈম, মেজ ছেলে ফাহিম, মেয়ে তানহার কান্না যেন থামছে না। নিহত নজরুল ইসলামের বাবার নাম মৃত চাঁন মিয়া। সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি পশ্চিমপাড়া বড়বাড়ির বাসিন্দা ছিলেন তিনি। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নজরুল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থেকে দ্বিগুণ ভোট বেশি পেয়ে ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। পরে নজরুল ২ নম্বর প্যানেল মেয়রও নির্বাচিত হন। নজরুল নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক সদস্য ছিলেন। কাউন্সিলর নজরুলের ঘনিষ্ঠ বন্ধু সিরাজুল ইসলাম লিটন। তার বাবার নাম মনির হোসেন। সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় বাঘামারা এলাকায় তার বাড়ি। ৪ ভাই ও ৩ বোনের মধ্যে লিটন তৃতীয়। বাসায় গিয়ে দেখা যায় লিটনের ছবি বুকে নিয়ে কাঁদছে তার স্বজনরা। লিটনের ভাই মিন্টু জানান, লিটন ভাই খুবই স্বদালাপী ও বন্ধু সুলভ ছিলেন। নজরুলের সঙ্গে অপহূত হন সিদ্ধিরগঞ্জের কদমতলী এলাকার মুক্তিযোদ্ধা হায়দার আলী খানের ছেলে মনিরুজ্জামান স্বপনও। ২ ভাই ৩ বোনের মধ্যে স্বপন সকলের বড়। ছেলের খোঁজ না পেয়ে স্বপনের মা-বাবা, স্ত্রী মোর্শেদার চোখ থেকে শুধুই পানি ঝড়ছে। স্বপনের স্বর্ণালী (৯) ও তাবাস্সুম (৮ মাস) নামে দুইটি মেয়ে রয়েছে। স্ত্রী মোর্শেদা আক্তার জানান, অবুঝ দুই সন্তানের এখন কি হবে? অপহূত তাজুল ইসলামের বাবা সাহাবুদ্দিন ও মা তাসলিমা ছেলের ছবি বুকে নিয়ে কান্না-কাটি করছেন। ৩ ভাইয়ের মধ্যে তাজুল ইসলাম সকলের বড়। অপর দুই ভাই সাইফুল ইসলাম ও রাহাত হোসেন বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। অপহূত হন গাড়ি চালক জাহাঙ্গীর আলমও। তার বাড়ি সিদ্ধিরগঞ্জের কদমতলী পশ্চিমপাড়া এলাকায়। শুক্কুর আলী মেম্বারের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম দুই মাস যাবত্ গাড়ি চালকের চাকরি নেন। তার বাসায় গিয়ে দেখা যায়, ৯ মাস পূর্বে বিয়ে করা স্ত্রী নুপুর স্বামীর জন্য কাঁদছেন। আট মাসের অন্ত:সত্ত্বা নুপুর জানান, আমার সন্তানের কি হবে? আর কোন কথা বলতে না পেয়ে মাটিতে লুটয়ে পড়েন তিনি। জাহাঙ্গীরের মা মেহেরুন নেছা ছেলের ছবি নিয়ে খোঁজে ফিরছেন ছেলেকে।