প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের দক্ষিণাঞ্চলে আরেকটি পারমাণবিক বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপনের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুেকন্দ্রের কাজ সফলভাবে সমাপ্তির পর দ্বিতীয়টির কাজ শুরু করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের দক্ষিণাঞ্চলে আমাদের অনেক বিচ্ছিন্ন দ্বীপ আছে, বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে সেখানেই আরেকটি পারমাণবিক বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপন করা হবে। তিনি বলেন, পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে দীর্ঘসময় লাগে বলে এখন থেকেই আমাদের এ পারমাণবিক বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপনের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে।
গত জানুয়ারিতে সরকার গঠনের পর প্রধানমত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ সচিবালয়ে গতকাল সকালে প্রথমবারের মত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে এসে কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ভাষণে এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপনের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয় ১৯৬২ সালে। কিন্তু আন্তর্জাতিক অনেক বড় বড় দেশের দ্বন্দ্ব মোকাবেলা করে কয়েক দশক পর আমাদের এ কাজ বাস্তবায়নে হাত দিতে হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের অগ্রগতির জন্য বিদ্যুত্ খুবই গুরুত্বপূর্ণ, এই উপলব্ধি থেকে নানা বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে আমরা এই পারমাণবিক বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। আমরা যদি আরেকটি পারমাণবিক বিদ্যুেকন্দ্র চাই, তাহলে এখনই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান বক্তৃতা করেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবদুস সোবহান সিকদার এবং সংশ্লি¬ষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব খন্দকার আসাদুজ্জামানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি সকল মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করে সমস্যাগুলো জানার চেষ্টা এবং মন্ত্রণালয়গুলো গতিশীল করার লক্ষ্যে মতবিনিময় করছেন। তিনি বলেন, সরকার প্রধান হিসেবে আমাকেই জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হয়। অনেক ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীন দেশ ও মর্যাদাসম্পন্ন জাতি হিসেবে আমাদের বিশ্বে মাথা উঁচু করে চলতে হবে। এ জন্য দেশকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করতে হবে। আর আমাদের সে যোগ্যতা আছে।
দেশকে সমৃদ্ধ করার মত সামর্থ্য, দক্ষতা ও ক্ষমতা আমাদের আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে আমরা সর্বদাই জাতির পিতার কাছ থেকে অনুপ্রেরণা পেয়ে থাকি। বিজ্ঞান শিক্ষার প্রচার ও গবেষণার উপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অগ্রগতি ও উন্নয়নের জন্য বিজ্ঞান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সব কিছুর সঙ্গেই বিজ্ঞান জড়িত, বিজ্ঞান ছাড়া দেশের উন্নতি সম্ভব নয়। জনশক্তি বিবেচনায় মন্ত্রণালয় ছোট হলেও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কাজ ব্যাপক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের আহ্বান জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ ও বাংলা ভাইয়ের উত্থান, একই দিনে ৫শ’ স্থানে বোমা হামলা, শাহ এসএম কিবরিয়া ও আহসান উল¬াহ মাস্টারের মত নেতাদের হত্যা, এমনকি আমাকেও হত্যার জন্য গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছিল। তখন মানুষ মেরে গাছে ঝুলিয়ে রাখা এবং প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেয়া ছিল নিত্য ঘটনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সীমিত সম্পদের যথাযথ ব্যবহার করা গেলে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মাধ্যম আয়ের রাষ্ট্রে পরিণত হবে।
