আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসররাই দেশজুড়ে গুম-খুন অপহরণ করছে বলে অভিযোগ করে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও তাদের দোসররা দেশজুড়ে খুন-গুম-হত্যা ও সন্ত্রাস করছে। তাই সরকার এসব বন্ধ করতে পারবে না। নির্দলীয় সরকারের অধীনে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হলেই হত্যা-সন্ত্রাস-গুম-খুন বন্ধ হবে। ময়মনসিংহের ত্রিশালে পুলিশের প্রিজন ভ্যানে হামলা চালিয়ে জঙ্গি ছিনতাইয়ের সঙ্গে যুবলীগ নেতার সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগের কথা উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, জঙ্গি পালিয়ে গেল, কানেকশন পাওয়া গেল যুবলীগ নেতার। আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগের সঙ্গে সম্পর্ক জঙ্গি-গুম-খুনের। জঙ্গিদের মদদদাতা হলো- আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ। খালেদা বলেন, দেশের মানুষ বাসা থেকে বের হলেই গাড়ি থামিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এ সরকারের কাছে কেউ নিরাপদ নয়। স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি নেই। গুম-খুন করে সাময়িকভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকা যায়, কিন্তু এর পরিণতি ভালো হয় না, এটা আওয়ামী লীগ ভালো করেই জানে।
জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)’র ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় এক আলোচনা সভায় বেগম খালেদা জিয়া এসব কথা বলেন। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান। জাগপার প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) চেয়ারম্যান গোলাম মর্তুজা, এলডিপির মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ, খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাকসহ ১৯ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা এতে বক্তব্য রাখেন।
খালেদা জিয়া আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আলোচনার দরজা খোলা আছে। আমরা সব সময় আলোচনা করতে প্রস্তুত। নিজেদের যদি জনপ্রিয় মনে করেন তাহলে তালবাহানা ও নাটক বন্ধ করে নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। অন্যথায় আন্দোলনের মাধ্যমে পতন ঘটানো হবে। একই সঙ্গে বেগম জিয়া তার দল ও জোটের নেতা-কর্মীদেরকে আন্দোলনের প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন, আগামী দিনের আন্দোলনের প্রস্তুতি নিন। আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা দেশ রক্ষা করবো, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবো। দেশকে ক্রীতদাস থেকে মুক্ত করতে আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।
খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ অবৈধ অনৈতিক ক্রীতদাশ সরকার। ক্রীতদাসের কথায় কিছুই হয় না। প্রয়োজন জনগণের সরকার। আর এ জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
তিনি বলেন, সরকার যতই চিত্কার করুক, ভয়-ভীতি, মামলা দিয়ে সফল হবে না। মামলা-বন্দুক দিয়ে ভয় দেখাতে পারলেও তারা ভালো করেই জানে এর পরিণতি হয় করুন।
খালেদা জিয়া বলেন, বর্তমানে দেশে কোনো সরকার নেই। আওয়ামী লীগ জবর-দখল করে সরকারে রয়েছে। জনগণের ভোটে বৈধ সরকার নয়। সম্পূর্ণ অবৈধ অনৈতিক সরকার। ৫ জানুয়ারি জনগণ ভোট দেয়নি। ভোটকেন্দ্রে যায়নি। ৫ শতাংশ ভোটও পড়েনি।’
তিনি বলেন, জাতীয় সংসদে অশালীন কথা বলা হয়। জাতীয় সংসদে বিরোধী দল বলে কেউ নেই। যারা আছে তারা অবৈধ সরকারের অংশ। কারণ তারাও বিনা ভোটে নির্বাচিত।
নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ইসি সরকারে আজ্ঞাবহ। তাদের উচিত সময় থাকতে পদত্যাগ করা। কারণ তাদের অধীনে কোনো দিনই কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না।
তিস্তার পানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা পানির ন্যায্য হিস্যা পাচ্ছি না। আমরা যখন আন্দোলন করি, তখন এই সরকার আমাদের আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার ষড়যন্ত্র করে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশ মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের কমিশনার ও প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ ৪ জনকে অপহরণ করা হয়েছে। আজকে বুধবার নজরুল ইসলামের লাশ পাওয়া গেছে। আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে দেওলিয়া হয়ে গেছে। এমন মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এখন হত্যা, গুম, খুন করে অবৈধ, অনৈতিকভাবে সরকারে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য নির্যাতন চালাচ্ছে।
শফিউল আলম প্রধান বলেন, খালেদা-তারেকের বিরুদ্ধে যে নির্যাতন হচ্ছে, পৃথিবীর ইতিহাসে কোথাও এমন নির্যাতন হয়নি। মঞ্চে উপস্থিত খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, নেত্রী, আপনাকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়নি, আধিপত্যের ষড়যন্ত্রে জিয়ার স্মৃতিকে উচ্ছেদ করা হয়েছে।
সভায় আরো বক্তব্য রাখেন- ইসলামী ঐক্যজোটের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এম এ রকিব, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মোর্তুজা, ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি, এলডিপির মহাসচিব রেদওয়ান আহম্মেদ, পিপলস লীগের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট গরীবে নেওয়াজ, ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন মনি প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন- জাগপার সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুত্ফর রহমান।
