নিরাপত্তাহীন রাবি ক্যাম্পাস উত্কণ্ঠায় শিক্ষার্থীরা

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০১৪, ২৩:৪৬
শিক্ষার্থীদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার জন্য সর্বদা শতাধিক পুলিশ দায়িত্বে থাকলেও বার বার রক্তে রঞ্জিত হচ্ছে উত্তরাঞ্চলের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। মতিহারের এই সবুজ চত্বরে পুলিশের সামনে অথবা কয়েক গজ অদূরে নৃশংস ঘটনা ঘটলেও মূলত পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে করে ক্যাম্পাসে পুলিশের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধেও। তারাও সবকিছু দেখেও না দেখার ভান করছে বলে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ তুলেছে। ফলে নিরাপত্তাহীন ক্যাম্পাসে উদ্বেগ-উত্কণ্ঠায় ভুগছে সাধারণ শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। এপ্রিলেই ক্যাম্পাসে একাধিক নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের নিজ কক্ষে গুলিতে খুন হয়েছেন ছাত্রলীগের এক নেতা। হামলার শিকার হয়েছেন তিনজন। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাত করেছে স্থানীয় এক সন্ত্রাসী। এছাড়া বিভিন্ন আবাসিক হলে শিবিরের এক সভাপতিসহ মারপিটের শিকার হয়েছেন অন্তত ৬ শিক্ষার্থী। এরও আগে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে সন্ত্রাস ও রক্তপাতের ঘটনায় জড়িতদের ব্যাপারে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদাসিনতায় সন্ত্রাসীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বার বার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে হলের সামনে ছাত্রলীগের মাসুদ হাসান ও টগর মোহাম্মদ সালেহী হামলার শিকার হয়েছেন। তারা যেখানে হামলার শিকার হয়েছেন তার ২০ হাত দূরে শহীদ জিয়াউর রহমান ও শহীদ হবিবুবর রহমান হলে অন্তত ১০ জন পুলিশ ছিল। ছাত্রলীগের ওই নেতাদের মারার সময় তারা উচ্চৈস্বরে চিত্কারও করেছেন। কিন্তু তাদের বাঁচাতে পুলিশ এগিয়ে আসেনি। এছাড়া মাসুদ ও টগর যখন হল থেকে বের হয় তাদের পিছনে পিছনে পুলিশের একটি ভ্যানও এসেছিল। তারা ওই রাস্তা দিয়ে চলে যাওয়ার তিন মিনিটের মাথায় এই বর্বর হামলার ঘটনা ঘটে। এর আগে গত ৪ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে নিজ কক্ষে দুপুর ১টার সময় খুন হন ছাত্রলীগ নেতা রুস্তম আলী আকন্দ। ওই সময়েও হল গেটে পুলিশ কর্তব্যরত ছিল। ছাত্রলীগ নেতাদের হাত-পায়ের রগ কাটার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে টানা চার দিন ধর্মঘটও পালন করেছে। তারপরও পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের টনক নড়েনি। এ ব্যাপারে মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (পূর্ব) প্রলয় চিচিম সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশ তার কাজ করে যাচ্ছে। একজন অপরাধীকে ধরা অনেক কঠিন কাজ। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ক্যাম্পাসে পুলিশ যথাযথ দায়িত্ব পালন করছে বলেও দাবি করেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান সাংবাদিকদের বলেন, ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পুলিশকে দেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাসহ অপরাধ দমনে তারাই কাজ করছেন। শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন রাবি সংবাদদাতা জানান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ফোকলোর বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের ছাত্রবৃত্তি বিষয়ক সম্পাদক টগর মোহাম্মাদ সালেহ এবং ইতিহাস বিভাগের ছাত্র ও ছাত্রলীগ কর্মী মাসুদ হোসেনের ওপর শিবিরের হামলার প্রতিবাদে এবং শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে হামলার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের সহপাঠীরা। গতকাল বুধবার বেলা ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দলীয় টেন্ট থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে আবারো সেখানে এসে সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন রাবি ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান রানা এবং সাধারণ সম্পাদক এসএম তৌহিদ আল হোসেন তুহিন।