পূর্ব ইউক্রেনের স্লোভিয়ানস্কে রুশপন্থিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেছে কিয়েভ। এর আগে ডোনেস্কে আঞ্চলিক কৌঁসুলির কার্যালয় দখল করে নিয়েছে কয়েকশ’ রুশপন্থি বিচ্ছিন্নতাবাদী। এরকম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই গুপ্তচরবৃত্তির সন্দেহে ইউক্রেনে নিযুক্ত রাশিয়ার সামরিক অ্যাটাশেকে আটক করে দেশত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
পূর্ব ইউক্রেনের স্লোভিয়ানস্কে গতকাল শুক্রবার রুশপন্থিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেছে কিয়েভ কর্তৃপক্ষ। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা শহরটির কাছে বন্দুকযুদ্ধ, বিস্ফোরণ এবং সামরিক হেলিকপ্টার থেকে গুলিবর্ষণের খবর জানিয়েছে। সেখানে যুদ্ধকালীন জরুরি সাইরেনের শব্দও শোনা গেছে। রাশিয়ার একটি টেলিভিশন চ্যানেলে বলা হয়েছে, নগরীটি ‘লণ্ডভণ্ড’ হচ্ছে। এক রুশপন্থিকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা এএফপি বলেছে, ‘বড় ধরনের আক্রমণ’ চলছে। এদিকে কিয়েভে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আর্সেন আভাকভের একজন সহযোগী কোনো মন্তব্য করতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এটা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেউ কোনো কিছু বলবে না’। এর আগে বৃহস্পতিবার পূর্ব ইউক্রেনের ডোনেস্কে আঞ্চলিক কৌঁসুলির কার্যালয় দখল করে নিয়েছে কয়েকশ’ রুশপন্থি বিচ্ছিন্নতাবাদী। এসময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। টেলিভিশনে সরাসরি সমপ্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, হামলাকারীরা পুলিশের দিকে ককটেল এবং পাথর ছুঁড়ে মারে। পুলিশও পাল্টা টিয়ার গ্যাস এবং স্টান গ্রেনেড ছুঁড়েছে। রুশপন্থি অস্ত্রধারীরা পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে অস্ত্র ও ঢাল ছিনিয়ে নিয়ে জোর করে ভবনে প্রবেশ করে এবং ভবনের ওপরে স্বঘোষিত ডোনেস্ক গণপ্রজাতন্ত্রের পতাকা ওড়ায়।
পূর্ব ইউক্রেনের ডোনেস্কে রুশপন্থি বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ইতিমধ্যে ঐ অঞ্চলকে ডোনেস্ক গণপ্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং রাশিয়ার সঙ্গে যোগ দেয়ার প্রশ্নে আগামী ১১ মে গণভোটের আহবান জানিয়েছে। এরকম প্রেক্ষাপটে পূর্ব ইউক্রেন কিয়েভ সরকারের হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার মত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় ইউক্রেনের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ওলেস্কান্দর তুর্কিনোভ রাশিয়ার আগ্রাসন মোকাবেলার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার তিনি এক ডিক্রি জারি করে ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী সবাইকে বাধ্যতামূলকভাবে সামরিক বাহিনীতে যোগ দেয়ার আইন পুনর্বহাল করেছেন।
এদিকে ইউক্রেনে গুপ্তচরবৃত্তির সন্দেহে দেশটিতে নিযুক্ত রাশিয়ার সামরিক অ্যাটাশেকে আটক করে দেশত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আটক রুশ সামরিক অ্যাটাশের নাম-পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত আর কোনো তথ্য জানায়নি ইউক্রেন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ওই অ্যাটাশে তার কূটনৈতিক মর্যাদার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এমন সব কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের জন্য তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে।
