নতুন কোচ পিটার মুরসের জমানায় প্রথম বলি হলেন গ্রাহাম গুচ। ইংল্যান্ড দলের ব্যাটিং কোচের পদ থেকে বৃহস্পতিবার তাকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে বলে ইংল্যান্ড এন্ড ওয়ালস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
মার্চ ২০১২ থেকে ইংল্যান্ড দলের স্থায়ী ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব পালন করে আসা গুচ বলেন, প্রধান কোচ হিসেবে পিটার মুরসের অধীনে ইংল্যান্ডে দলের নতুন যুগ শুরুর প্রাক্কালে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে বাদ পড়ায় তিনি ‘দুঃখ’ বোধ করছেন। যদিও তার বাদ পড়ার যথেষ্ট যৌক্তিক কারণও আছে। গত ১৩ মাস সময়ে কোন টেস্ট ইনিংসে একবারও ৪০০ রানের উপরে উঠতে পারেনি ইংল্যান্ড।
ইসিবির দেয়া বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘অধিনায়ক অ্যালিস্টার কুকের সঙ্গে আলোচনার পর তিনি পরিবর্তনের পক্ষে বলে আমাকে জানালেন। এটা যদিও দুঃসংবাদ, আমি এটাকে সম্মান করি এবং এমন পরিবর্তন আনার অধিকার পিটার মুরসের রয়েছে।’
২০০৯ সালের নভেম্বর থেকে ইংল্যান্ড দলের ব্যাটিং পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা গুচকে ‘একজন অসাধারণ’ কোচ হিসেবে প্রশংসা করেন ইসিবি ম্যানেজিং ডিরেক্টর পল ডাউনটন, ‘তাকে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে এবং অবসর নেয়ার আগে তাকে অনেক কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। গত প্রায় এক দশক যাবত্ কাজের বেলায় সে পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে আসছে এবং তার উন্নতি দেখতে পারাটা একটা সম্মানের বিষয়।’ তবে নিঃসন্দেহে সবচেয়ে বেশি কষ্টের মধ্যে অধিনায়াক অ্যালিস্টার কুক। কারণ ক্রিকেট জীবনের শুরু থেকেই এই গুচকে পরামর্শক মেনে আসছেন তিনি। গুচের বিদায় বেলায় ইংলিশ অধিনায়ক বলেন, ‘বন্ধু বা খেলোয়াড়-কোচ হিসেবে আমরা কতটা ঘনিষ্ট ছিলাম সেটা সবাই জানে। তার ব্যাপারে বলতে হলে অনেক কিছুই মনে পড়ে যাবে। একটা সময় তার অটোগ্রাফ নেয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতাম। আর ভাবতাম লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষার প্রহরটা যেন আরো লম্বা হয়, যেন তিনি আরো দীর্ঘসময় ধরে ব্যাট করে যাক। সেই সময়ের ঘটনা আমার অনেকদিন ধরে মনে থাকবে। এরপর তার সাথে অনেক বিপদের মুহূর্ত আমি একসাথে কাটিয়েছি। আশা করি যেখানেই সে থাকুক ভালই থাকবে।’
গুচের মতেও এই মুহূর্তে ইংলিশ দলের অধিনায়কের পদে সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি কুক, ‘আমার দৃষ্টিতে ইংল্যান্ড দলকে নেতৃত্ব দেয়া সঠিক ব্যক্তি কুক। তিনি সততার সঙ্গে নির্দেশ পালন করেন এবং সব সময়ই দেশের স্বার্থে তিনি নিজকে বিলিয়ে দেবেন।’
