ওরা চিরকূট চাঁদাবাজ

আপডেট : ০২ মে ২০১৪, ২১:৫৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের চিরকুট আতঙ্কের রহস্য উদঘাটন হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-১৪ অভিয়ান চালিয়ে নবীনগরে দুই শীর্ষ চিরকুট চাঁদাবাজকে গ্রেফতার করে বুধবার রাতে নবীনগর পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছে। র্যাব তাদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির জন্য ব্যবহূত বেশকিছু মোবাইল ফোন সেট ও সিমকার্ড জব্দ করে। গ্রেফতারের খবরে আতঙ্কিত নবীনগরে জনমনে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। ওই রাতেই নবীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ রূপক কুমার সাহা প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। ব্রিফিংয়ে জানানো হয় ওই চিরকুট চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের দুই হোতা হচ্ছে উপজেলার বগডহর গ্রামের আবুবকর ছিদ্দিক মিয়ার ছেলে মোঃ মহিউদ্দিন মদন (৪১) ও তার সহযোগী ওই গ্রামেরই মোঃ রহিছ মিয়া মেম্বারের ছেলে মোঃ শাহিনুর আলম (৪২)। চিরকুট চাঁদাবাজ চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতার করতে র্যাব ও পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। দুই হোতার বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে দুটি মামলা হয়েছে। একটিতে পুলিশ বাদী, অপরটিতে ক্ষতিগ্রস্ত আবু তাহের মিয়া বাদী। ওই চিরকুট চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট গত তিন মাস ধরে নবীনগরে ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন ধনাঢ্য ব্যক্তির কাছে চিরকুট দিয়ে চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা না দেয়ায় বেশকিছু ব্যক্তির বাড়িতে বা তার ব্যবহূত হোন্ডায় আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত পাঁচটি মোটর সাইকেলসহ ৭টি বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। ওই চক্রটি তাদের টার্গেট করা ব্যক্তিদের আয়ের সাথে সঙ্গতি রেখে ২০, ৩০, ৫০, ৮০ হাজার টাকা চিরকুটে লিখে রাতে বাড়িতে টাঙ্গিয়ে দিয়ে আসত। এসব আগুন আতঙ্কে ও হোন্ডা পোড়ানোর ভয়ে অনেকে গোপনে চাঁদা প্রদানও করেছেন। এসব ঘটনায় নবীনগর থানায় ৩টি মামলা ও ৪টি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।